শিমলা ও দেহরাদূন, ১৬ আগস্ট (হি.স.): মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং ভূমিধসের জেরে হিমাচল প্রদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত। ভারী বৃষ্টি, বন্যা পরিস্থিতি এবং ধসের কারণে চার দিনে হিমাচল প্রদেশে মারা গিয়েছেন অন্তত ৬০ জন। মঙ্গলবার ধস নামার কারণে কালকা থেকে শিমলা যাওয়ার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ব্যাপক ভূমিধসের জেরে বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত শিমলার সামার হিল এলাকা, সেখানে বুধবারও উদ্ধারকাজ চলছে।
এসডিএম শিমলা (আর্বান) ভানু গুপ্তা বলেছেন, এখনও পর্যন্ত এখানে ১৪টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এনডিআরএফ-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড বি এস রাজপূত বলেছেন, “প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখানে ২১ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত আমরা ১২টি দেহ উদ্ধার করেছি। বুধবার আমরা আরও একটি দেহ পেয়েছি, এখনও পর্যন্ত ১৩টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছি। আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না কখন অনুসন্ধান শেষ হবে, কারণ নীচের এলাকায় মৃতদেহগুলি কমপক্ষে ২ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে শিমলায় বৈঠকে বসেছিলেন। হিমাচলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি স্কুল, কলেজ বুধবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখা হতে পারে বলেও প্রশাসন সূত্রে খবর। হিমাচল প্রদেশের পাশাপাশি লন্ডভন্ড দেবভূমি উত্তরাখণ্ডও। সেখানেও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উত্তরাখণ্ডেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দুই রাজ্যের বিক্ষিপ্ত এলাকায় লাল সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।