মণিপুরে দ্রুত শান্তি ফিরবে’, লোকসভায় আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর


নয়াদিল্লি, ১০ আগস্ট (হি.স.): অনাস্থা প্রস্তাবের জবাবি ভাষণে মণিপুরকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার মণিপুরের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, আসলে সেরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার ইচ্ছাই ছিল না বিরোধীদের। সেই জন্যই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভাষণের সময়ে তাঁরা হট্টগোল করেছেন। মোদী সাফ জানান, মণিপুরের পাশে রয়েছে গোটা দেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে মণিপুর নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু সেই সময়ে শুনতে চাননি বিরোধীরা। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারই মণিপুরে শান্তি ফেরাতে চেষ্টা করছে। দোষীদের শাস্তিও দেওয়া হবে। দ্রুত শান্তি ফিরবে সেরাজ্যে। মা-বোনেদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, দেশ আপনাদের পাশেই রয়েছে।”

এদিনের ভাষণের মণিপুর প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী রাহুল গান্ধীর ভারতমাতার প্রসঙ্গ উত্থাপনের কড়া নিন্দা করেন। মোদী বলেন, সরকার বলেছিল মণিপুর নিয়ে আলোচনায়। কিন্তু ওরাই তা হতে দেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কালই মণিপুর নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন। আর এই লোক ভারতমাতাকে যারা টুকরো টুকরো করেছে, সেই মায়ের দুঃখের কথা বলে! কংগ্রেসের ইতিহাস মা ভারতীকে ছিন্নভিন্ন করার ইতিহাস। বক্তৃতা দিতে গিয়ে মোদী আরও বলেন, দেশের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে নিজের হৃদয়ের মধ্যে রাখেন তিনি।

গত ৩ মে থেকে হিংসায় জ্বলছে মণিপুর, কিন্তু সেই বিষয়ে একবারের জন্যও বিবৃতি দেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লাগাতার তাঁর বিবৃতি দাবি করার পরে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করে বিরোধী দলগুলি। জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে প্রথম দেড় ঘণ্টা বিরোধীদের নানা বিষয়ে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময়ে একাধিকবার সংসদে মণিপুরের নামে স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধী দলের সাংসদরা। মণিপুর নিয়ে মোদীর নীরবতার জেরে অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে যান বিরোধীরা। মোদীর ভাষণের সময় অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন বিরোধীরা। টানা দু’ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। শেষ পর্যন্ত নস্যাৎ হয়ে যায় বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব।