গুয়াহাটি, ১৪ জুন (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের বিভিন্ন ট্রেন ও রেলওয়ে স্টেশন থেকে গত কয়েকদিনের নিয়মিত তালাশি চালিয়ে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করেছে। এই সময়সীমার মধ্যে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে আরপিএফ।
এ সম্পর্কে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে জানান, চলতি মাসের ৮ তারিখ কোকরাঝাড় পোস্টের আরপিএফ মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে কোকরাঝাড় রেলওয়ে স্টেশনে কৈলাশ সত্যার্থী চিল্ড্রেন্স ফাউন্ডেশনের সদস্যদের সাথে যুগ্ম অভিযান চালায়। এই অভিযানের সময় তারা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে উদ্ধার করে। একই দিনে আরপিএফ গুয়াহাটির সাব-ইন্সপেক্টরের তত্ত্বাবধানে রেলওয়ে চাইল্ড লাইনের পক্ষ থেকে গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে তল্লাশি চালানো হয়। তাদের এই তল্লাশির সময় একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে তারা উদ্ধার করে। একইদিনে কাটিহার রেলওয়ে স্টেশন থেকে আরপিএফ একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে উদ্ধার করে এবং ডালখোলার আরপিএফ সুর্যকমল স্টেশনে নিজেদের কর্তব্য পালনের সময় একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত অপ্রাপ্তবয়স্কদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি, কোকরাঝাড়, রেলওয়ে চাইল্ডলাইন গুয়াহাটি, রেলওয়ে চাইল্ডলাইন, কাটিহারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৯ তারিখ নিউ বঙাইগাঁওয়ের আরপিএফ টিম নিয়মিত তল্লাশি চালানোর সময় নিউ বঙাইগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে দুটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তাদের বঙাইগাঁওয়ের সখি ওয়ানস্টপ সেন্টারের ইনচার্জের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একইদিনে গুয়াহাটির আরপিএফ ও রেলওয়ে চাইল্ডলাইন যৌথভাবে গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশনে তল্লাশি চালায়। এই তল্লাশির সময় তারা একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে উদ্ধার করে তাকে রেলওয়ে চাইল্ডলাইন গুয়াহাটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ওইদিনই (৯ জুন) ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনার অব আরপিএফ, আলিপুরদুয়ারের তত্ত্বাবধানে আলিপুরদুয়ারের ক্রাইম প্রিভেনশন অ্যান্ড ডিটেকশন স্কোয়াডের দল কোকরাঝাড় থেকে নিউ কোচবিহার রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ১২৫০৫ ডাউন (নর্থইস্ট এক্সপ্রেস) ট্রেনে অভিযান চালিয়ে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করার পাশাপাশি এক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে মানব পাচারকারীরা পরিবারের সম্মতি ছাড়া বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল। তাদের নিউ কোচবিহার রেলওয়ে স্টেশনে নামানো হয়। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উদ্ধারকৃত ওই দুই মেয়েকে এবং ধৃত ব্যক্তিকে কোচবিহারের গভর্মেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)-এর অফিসার ইনচার্জের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মানব পাচারে জড়িত সন্দেহজনক ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি স্টেশনগুলিতে সন্দেহজনক অবস্থায় শিশুদের চলাফেরা করা, অভিভাবক ছাড়া শিশুদের একা ভ্রমণ করা ইত্যাদি বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকার জন্য আরপিএফ-এর ট্রেন এসকোর্ট পার্টি ও কর্মীদের বিভিন্ন স্টেশনে নিয়োজিত করা হয়েছে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়েতে ‘মেরি সহেলি’-র অধীনে একটি নতুন উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু যাত্রীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং যে কোনও জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে ১৩৯ হেল্পলাইন নম্বর ব্যবহার করার জন্য দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় করে রাখা হয়েছে, জানান উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে।

