৪৮০০ কোটি টাকার ২২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে ৪ জানুয়ারি মণিপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী

ইমফল-শিলচর সড়কে বরাক নদীর ওপর ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইস্পাত সেতুর উদ্বোধন

ইমফল, ৩ জানুয়ারি (হি.স.) : আগামীকাল ৪ জানুয়ারি একদিনের সফরসূচি নিয়ে মণিপুর আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঝটিকা সফরে এসে তিনি ১,৮৫০ কোটি টাকার প্রায় ১৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া প্রায় ২,৯৫০ কোটি টাকার নয় (৯)-টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে সরকারি সূত্রে।
সরকারি সূত্রের খবর, যে প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন, সেগুলি যথাক্রমে সড়ক পরিকাঠামো, পানীয় জল সরবরাহ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, নগরোন্নয়ন, আবাসন, তথ্য ও প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প ও সংস্কৃতি ইত্যাদি সম্পর্কিত। এছাড়া, গোটা দেশের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রধানমন্ত্রী এদিন ১,৭০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে পাঁচটি জাতীয় সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ১১০ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের এই জাতীয় সড়কগুলি নির্মাণ হয়ে গেলে এই রাজ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা গ্রহণ করবে।
এছাড়া ইমফল থেকে শিলচর (অসমের কাছাড় জেলা)-এর মধ্যে সারা বছর নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ রক্ষা করতে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ৭৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বরাক নদীর ওপর নির্মিত ইস্পাত সেতুরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কেবল তা-ই নয়, প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২,৩৮৭টি মোবাইল টাওয়ার মণিপুরের জনগণের জন্য উৎসর্গ করবেন আগামীকাল। এই টাওয়ারগুলি রাজ্যের মোবাইল সংযোগ বাড়ানোর জন্য একটি বড় পদক্ষেপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাছাড়া, প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন ২৮০ কোটি টাকায় নির্মিত ‘থউবাল বহুমুখী প্রকল্পের জল সঞ্চালন ব্যবস্থা’। এই প্ৰকল্পটি ইমফল শহরেও পানীয় জল সরবরাহ করবে। এছাড়া তামেংলং জেলার দশটি জনবসতির বাসিন্দাদের পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের জন্য ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তামেংলং জল সংরক্ষণ ও জল সরবরাহ প্রকল্প এবং ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেনাপতি জেলা সদরে জল সরবরাহ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন মোদী।
এছাড়া রাজ্যে স্বাস্থ্যখণ্ডকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এদিন ইমফলে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত ‘স্টেট অব দ্য আর্ট ক্যানসার হাসপাতাল’-এর শিলান্যাস করবেন। সূত্রের দাবি, এই হাসপাতালটি নির্মিত হয়ে গেলে রাজ্যবাসীর ক্যানসার রোগ নির্ণয়ে আর বহিঃরাজ্যে যেতে হবে না। খরচও কমবে বহু গুণ। এতে রাজ্যের জনগণ ব্যাপক উপকৃত হবেন। অধিকন্তু, রাজ্যে কোভিড সম্পর্কিত পরিকাঠামোকে উন্নত করতে কিয়ামগেই-এ ২০০ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ডিআরডিও-র সহযোগিতায় এই হাসপাতাল তৈরি করতে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
ভারতের অন্যান্য শহরগুলিকে পুনরুজ্জীবিত এবং রূপান্তরিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নিরলস যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তার মধ্যে মণিপুরও একটি। ওই পদক্ষেপের বলে ‘ইমফল স্মার্ট সিটি মিশন’-এর অধীনেও এক প্রকল্পের সমাপ্তি হবে আগামীকাল। এভাবে ‘ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’ (আইসিসিসি), ‘ইমফল নদীতে ওয়েস্টার্ন রিভারফ্রন্টের উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়) ’ এবং থাঙ্গাল বাজারে (প্রথম পর্যায়) মল রোডের উন্নয়ন’ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন মোদী। এই প্রকল্পগুলির জন্য বাজেট ধার্য করা হয়েছে ১৭০ কোটি টাকার বেশি। সূত্ৰটি বলেছে, ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার প্ৰকল্পটি শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, কঠিন বা শুকনো (সলিড) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শহরে নজরদারি (সারভেইল্যান্স) সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি-ভিত্তিক পরিষেবা প্রদান করবে। এই মিশনের অধীনে অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প যেমন পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ বৃদ্ধি করবে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘সেন্টার ফর ইনোভেনশন, ইনোভেশন, ইনকিউবেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (সিআইআইআইটি)’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই প্রকল্পটি রাজ্যের সবচেয়ে বড় পিপিপি উদ্যোগ এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্ৰকে উৎসাহিত করবে।
এছাড়া হরিয়ানার গুরগাঁওয়ে ‘মণিপুর ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস’ প্রকল্পের নির্মাণকার্যেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইনস্টিটিউটটি ২৪০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত হবে। এতে রাজ্যের সমৃদ্ধ শিল্প ও সংস্কৃতির প্রচারে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও গতিশীল ও মজবুত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইমফলে নবরূপে সজ্জিত তথা সংস্কারিত গোবিন্দজি মন্দিরের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া তিনি মইরাঙে আইএনএ কমপ্লেক্সেরও উদ্বোধন করবেন। প্রসঙ্গত, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজি সুভাষ বসুর ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী (আইএনএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
তাছাড়া, ‘সব-কা সাথ, সব-কা বিকাশ, সব-কা বিশ্বাস’ মন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রধানমন্ত্রী জন-বিকাশ কর্মসূচির অধীনে ১৩০ কোটি টাকার বেশি মূল্য ব্যায়-সাপেক্ষ ৭২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর এদিন স্থাপন করবেন। এই প্রকল্পগুলি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সামগ্রিক উন্নয়ন, যেমন স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্ৰে পরিকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের তাঁতশিল্পকে মজবুত করতে ৫০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এগুলি ইমফল পূর্ব জেলার নংপোক কাচিঙে ‘মেগা হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার ’ (এতে ইমফল পূর্ব জেলার প্রায় ১৭ হাজার তাঁতিকে উপকৃত করবে) এবং মইরাঙের ‘ক্র্যাফ্ট অ্যান্ড হ্যান্ডলুম ভিলেজ’ (এলাকার তাঁতি পরিবারগুলিকে সাহায্য করবে)। এই দুই প্রকল্পের বলে মইরাঙের পর্যটন সম্ভাবনাকেও উদ্ভাসিত করার পাশাপাশি লোকতাক হ্রদ সংলগ্ন এবং স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
আগামীকালের সফরকালে নিউ চেকনে প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্ৰস্তাবিত সরকারি আবাস (কোয়ার্টার) নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই আবাসটি অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ একটি সমন্বিত হাউজিং কলোনি হবে। তিনি এদিন ইমফল পূর্বের ইবুধউ মার্জিঙে একটি রোপওয়ে প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
এগুলি ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্ৰ মোদী অন্য যে সব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সেগুলি নতুন শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (আইটিআই), দক্ষতা উন্নয়ন পরিকাঠামো (ইএসডিআই)-র অধীনে কাংপোকপি এবং তথ্য ও জনসংযোগ অধিকরণের একটি নতুন অফিসবাড়ি।