আগরতলা, ২০ আগস্ট: কিউবার বিপ্লবী নেতা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ত্রিপুরায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন ভারতে নিযুক্ত কিউবার রাষ্ট্রদূত জুয়ান কার্লোস মার্সান আগুইলেরা। তাঁর সফরকে ঘিরে ভারত-কিউবার ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির পারস্পরিক সংহতির বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।
ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সিপিআই(এম)-এর উদ্যোগে সাব্রুম ও আগরতলায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কিউবার রাষ্ট্রদূত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কিউবান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মিস মাইক দিয়াজ পেরেজ। আগরতলা বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান প্রাক্তন সাংসদ তথা সিআইটিইউ সভাপতি শংকর প্রসাদ দত্ত-সহ সিপিআই(এম)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত জুয়ান কার্লোস মার্সান আগুইলেরা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি ১৯৬০-এর দশকে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১৯৬০ সালে নিউইয়র্কে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন। সেই বৈঠকে দুই নেতা পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একটি নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারত এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং সহযোগিতার মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে সমর্থন করে চলেছে।
ভারত-কিউবার সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রের কথাও তুলে ধরেন আগুইলেরা। নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারতের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম কিউবা। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিকাঠামোগত স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার -এ ভারতের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি।
ভারতের আইটিইসি স্কলারশিপ কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন কিউবার রাষ্ট্রদূত। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচির আওতায় ৭০০-রও বেশি কিউবান পেশাদার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি, বায়োটেকনোলজি এবং আধুনিক প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভারতের ওষুধ শিল্পের ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন আগুইলেরা। ভারতকে ‘বিশ্বের ফার্মেসি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, কিউবার জন্য সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান এবং ওষুধ তৈরির কাঁচামালের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ভারত।
ভারত-কিউবা সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে কিউবার আগ্রহের কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। তাঁর বক্তব্যে আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয়ের পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি জোরদারের বার্তাও উঠে আসে।
ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ত্রিপুরায় কিউবার রাষ্ট্রদূতের এই সফর ভারত ও কিউবার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



















