কলকাতা, ৯ এপ্রিল (আইএএনএস): পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ২০২১ সালের নির্বাচনী ফলাফল এবার গোটা পশ্চিমবঙ্গে প্রতিফলিত হবে, বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে—এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় এক নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুর, বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ২০২১ সালে প্রথম প্রমাণ করেছিল যে বাংলায় পরিবর্তন সম্ভব। এবারের মানুষের মনোভাবই ইঙ্গিত দিচ্ছে, নন্দীগ্রামের সেই ফল এবার গোটা বাংলায়, বিশেষ করে ভবানীপুরে প্রতিফলিত হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে জয়ী হন, যেখানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী-কে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একযোগে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভবানীপুরে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের ‘নিষ্ঠুর’ নীতির জন্য পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে, যখন দেশের অন্যান্য রাজ্য এগিয়ে চলেছে। একসময় সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল হলদিয়ার বহু শিল্প ইউনিট বর্তমান শাসনে বন্ধ হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এবার বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং নিশ্চিতভাবেই পরিবর্তন আসবে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য নিয়মিত ‘রোজগার মেলা’ আয়োজন করা হবে, যেমনটি অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে করা হয়। পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
“বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রয়োজন,” বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, সংবিধানের বিধান মেনেই রাজ্যে শাসন চলবে এবং প্রতিটি নাগরিক তাদের প্রাপ্য পরিষেবা ও গণতান্ত্রিক অধিকার পাবেন।
নারী সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। হাসপাতালে কর্মরত মহিলা চিকিৎসকও নিরাপদ নন, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছাত্রীদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চান বাংলার মহিলারা।”
এছাড়াও, তিনি বলেন বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য রাজ্যকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ হাত থেকে মুক্ত করা এবং ধর্মীয় শরণার্থীদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা।



















