আগরতলা, ৩ এপ্রিল: গত ৫ বছর ধরে ‘থানসা’ স্লোগানের আড়ালে উন্নয়নের টাকা লুটের রেকর্ড গড়েছে তিপ্রা মথা। গায়ের জোরে কখনো মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় না। জনবিচ্ছিন্ন তিপ্রা মথা সাধারন তিপ্রাসাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে, দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে বিজেপির জয় আটকাতে পারবে না। তাই এই দুর্নীতিবাজ দলকে এডিসি থেকে সরিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে একটি উন্নয়নবান্ধব সরকার গড়তে হবে।
আজ ১৭ পেকুয়াজলা জন্মেজয়নগর কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থী মজী দেববর্মার সমর্থনে গাবর্দী বাজারে আয়োজিত এক জনসমাবেশে সম্বোধন করতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, গায়ের জোর দেখিয়ে কখনো ভোট আদায় করা যায় না। তাই মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিকেই ভোট দেবেন। কারণ ভারতীয় জনতা পার্টি গুন্ডামিতে বিশ্বাস করে না। তারা শান্তির কথা বলে যে শান্তি চায়, শান্তি চায়। কত রকমের অ্যাকটিং করে। আর অশান্তির বাতাবরণ সারা ত্রিপুরায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা ১০০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি সবসময় ভাবি যে আমি আপনাদেরই একজন। আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টি আপনাদেরই পার্টি। আমরা জাতি জনজাতি সবাই এক। আপনাদের কথা আমরা সবসময় ভাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আপনাদের কথা ভাবেন ও সেভাবে কাজ করেন। আমাদের সমস্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জনজাতিদের কথা চিন্তা করেন। যেটা আগে কেউ এভাবে চিন্তা করতেন না।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কায়দায় এখানেও তারা গুন্ডামির রাজত্ব কায়েম করতে চায়। মানুষ এখন সবই বুঝে গেছেন। এডিসিতে এতদিন ধরে শাসন কায়েম রেখেছে তিপ্রা মথা। শুধু লুট আর লুট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লুট কায়েম করে রেখেছে। রাজ্য সরকার থেকে এক পয়সা দেওয়া হলে সেই অর্থ কিভাবে লুট করবে সেই আশায় বসে রয়েছে তারা। জনজাতিদের উন্নয়নের কথা ভাবে না তারা। কিভাবে শুধু নিজেদের পকেট ভারী করা যায় সেই চিন্তা তাদের। তারা বলেছেন যে ভারতীয় জনতা পার্টি সঙ্গে জোট না করে নির্বাচনে লড়াই করলে ফান্ড নাকি আসবে না। আর এখন তো বিজেপির সঙ্গে নেই। তবে সেই ফান্ড এখন কোথা থেকে আসছে? আমরা সব জানি যে কোথা থেকে ফান্ড আসছে। আমাদের কাছে সব খবর আছে।
সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এডিসির সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে সমস্ত জনজাতি অংশের মানুষকে বলতে হবে যে তারা যাতে ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেন। আর সকাল সকাল গিয়ে যাতে সবাই নিজেদের ভোট দিয়ে আসেন। কারণ মানুষ যাতে ভোট দিতে না পেরে সেজন্য নানা রকম পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মনে রাখবেন যে ওদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। আপনাদের পাশে সরকার রয়েছে, নির্বাচন কমিশন রয়েছে। তাই আপনারা নির্ভয়ে ভোট দেবেন। ঘুম থেকে উঠে সারাক্ষণ চিন্তা করেন যে কীভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়। কি বলছেন? বলছেন যে অমরপুর ও বিশ্রামগঞ্জে নাকি এডিসির জায়গা নিয়ে যাচ্ছে নগর পঞ্চায়েত। মানুষকে বোকা বানানোর জন্য এধরণের ভুল বার্তা দিচ্ছেন। তাই আমি সকলের উদ্দেশ্যে বলছি যে আমি যতক্ষণ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আছি এবং আমাদের সরকার আছে ততক্ষণ পর্যন্ত এডিসি থেকে একরত্তি জায়গাও সরবে না। শুধু মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, গায়ের জোর দেখিয়ে রাজনীতি করা মানুষ সহ্য করবে না। সারা ভারতবর্ষে ২০/২১টি রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার চলছে। যারা অশান্তি করে, গুন্ডামি করে তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। আইন নিজের মতো কাজ করবে। গুন্ডামি করে রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে এখন। ডাঃ সাহা বলেন, মানুষ এখন তিপ্রা মথার চালাকি ধরে ফেলেছে। এখন আবার গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের জিগির তুলেছে। কিন্তু গনতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলেন। গনতন্ত্র ছাড়া কিছু সম্ভব নয়। আরো বলা হয়েছে যে আমাদের রাজ্যে ট্রাইব্যাল (জনজাতি) মুখ্যমন্ত্রী হবেন। মুখ্যমন্ত্রী তো মুখ্যমন্ত্রীই হন। ত্রিপুরায় ট্রাইব্যাল মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, এসসি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, মণিপুরী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, বাঙালি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু এডিসিতে যেভাবে লুটপাটের রাজত্ব আপনারা দেখিয়েছেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হলে ত্রিপুরাকে বিক্রি করেই বাইরে চলে যাবেন। কারণ আপনাদের সম্পর্কে মানুষ বুঝে গেছেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মন, বিধায়ক সুশান্ত দেব, সিপাহীজলা জেলার সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত সহ ভারতীয় জনতা পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।



















