নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল (আইএএনএস): জাতীয় রাজধানীতে পৃথক দুইটি ঘুষ কাণ্ডে চারজন সরকারি কর্মীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। এই ঘটনায় পুরসভা ও প্রত্নতাত্ত্বিক দফতরের মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল ফাঁদ পেতে অভিযান চালিয়ে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (এমসিডি) শাহদারা নর্থ জোনের এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও এক বেলদার এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)-র জন্তর মন্তর সাব-সার্কেলের এক কনজারভেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ও এক মনুমেন্ট অ্যাটেনডেন্টকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রথম মামলা: বাড়ি ভাঙা ঠেকাতে ঘুষ দাবি ৩১ মার্চ দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, এমসিডির এক বেলদার অভিযোগকারী ব্যক্তির কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। অভিযোগ ছিল, সম্প্রতি সংস্কার করা একটি বাড়ি ভাঙা হবে না—এই আশ্বাসের বিনিময়েই এই টাকা দাবি করা হয়।
সিবিআই ১ এপ্রিল ফাঁদ পেতে অভিযুক্ত বেলদারকে প্রথম কিস্তির ৫ হাজার টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে। তদন্তে জানা যায়, একই দফতরের এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের জন্যও আরও ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকেও গ্রেফতার করা হয়।
দ্বিতীয় মামলা: নোটিশ প্রত্যাহারে লক্ষাধিক টাকার লেনদেন
অন্যদিকে, ৩০ মার্চ দায়ের হওয়া আরেকটি মামলায় এএসআই-এর জন্তর মন্তর সাব-সার্কেলের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সরকারি নোটিশ প্রত্যাহার এবং কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে ৩.৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।
পরে দরকষাকষির পর ৩.১০ লক্ষ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং প্রথম কিস্তি হিসেবে ১ লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়। সিবিআই ফাঁদ পেতে ওই মনুমেন্ট অ্যাটেনডেন্টকে টাকা নেওয়ার সময় ধরে ফেলে। তদন্তে কনজারভেশন অ্যাসিস্ট্যান্টের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে এবং তাকেও গ্রেফতার করা হয়।
সিবিআই জানিয়েছে, চারজন অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



















