কাবুল, ৩ এপ্রিল(আইএএনএস): পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় অন্তত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালিবান।
তালিবানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, কুনার, পাকতিকা ও খোস্ত প্রদেশের আবাসিক এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে বুধবার থেকে এই হামলা শুরু হয়।
তিনি বলেন, “পাকিস্তানি বাহিনী টানা মর্টার, রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে,” এবং এতে হতাহতদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুনার প্রদেশের সারকানো ও মানোগাই জেলায় ১৫০টিরও বেশি মর্টার ও দূরপাল্লার গোলা নিক্ষেপ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিশু আহত হয় এবং সারকানোর নওয়াপাস এলাকায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
এছাড়া পাকতিকা প্রদেশের শকিন জেলায় ড্রোন হামলায় তিনজন এবং খোস্ত প্রদেশের জাজি ময়দান এলাকায় পৃথক হামলায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। পাকিস্তানের বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে চিনের উরুমকিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। আফগান বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বল্খী জানিয়েছেন, আফগান প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করতে চিন সফরে গিয়েছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের অর্থমন্ত্রী কারি দীন মোহাম্মদ হানিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলার ফলে দেশের নয়টি প্রদেশে ২৭ হাজারেরও বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত বহু পরিবার বর্তমানে খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় ও চিকিৎসার মতো মৌলিক পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত। এই পরিস্থিতিতে তিনি রাষ্ট্রসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।



















