নয়াদিল্লি, ৩০ মার্চ (আইএএনএস) : বামপন্থী উগ্রবাদ (লেফট উইং এক্সট্রিমিজম) নির্মূলের প্রশ্নে সোমবার লোকসভায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা গেল।
শিবসেনা সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডে মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলার উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সমস্যায় জর্জরিত এই এলাকায় রাজ্য সরকার “ফলপ্রসূ পদক্ষেপ” নিয়েছে। তিনি জানান, যখন একনাথ শিন্ডে গড়চিরোলির অভিভাবক মন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি নিজে সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করেছিলেন, যা প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়াতে সাহায্য করে।
শিন্ডে আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর নেতৃত্বে এখন মাওবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি শঙ্কর এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতের সরকার ও পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগকে কি উপেক্ষা করা হচ্ছে না।
তাঁর কটাক্ষ, “শাসক দলের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই বন্দুক হাতে মাওবাদীদের শেষ করেছেন, অন্য কারও কোনও ভূমিকা নেই।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এই সাফল্যের কৃতিত্ব একচেটিয়া ভাবে নিজেদের দখলে রাখতে চাইছে।
শঙ্কর আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদী হামলায় একাধিক কংগ্রেস নেতা নিহত হন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতা আন্দোলন বা মাওবাদী হিংসায় বিজেপির কেউ প্রাণ হারিয়েছেন কি না, ইঙ্গিত করে বলেন যে কংগ্রেস কর্মী ও নেতাদের আত্মত্যাগকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না।
এই বিতর্কে শাসকপক্ষ বর্তমান নেতৃত্ব ও রাজ্যভিত্তিক উদ্যোগের উপর জোর দিলেও, বিরোধীরা অতীতের অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দাবি করেছে।
ফলে, বামপন্থী উগ্রবাদ মোকাবিলায় সাফল্যের কৃতিত্ব কার—তা নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

