প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ‘হোম ভোটিং’ চালু করল নির্বাচন কমিশন

নয়াদিল্লি, ৩০ মার্চ (আইএএনএস): আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ‘হোম ভোটিং’-এর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২.৩ লক্ষেরও বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বাড়ি থেকেই ভোট দিতে পারবেন।

ইসিআই-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সুবিধা পাবেন ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটার এবং নির্বাচনী তালিকায় চিহ্নিত প্রতিবন্ধী ভোটাররা। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই নির্বাচনগুলি অনুষ্ঠিত হবে অসম, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায়। এছাড়াও ছয়টি রাজ্যে উপনির্বাচন রয়েছে। অসম, কেরল ও পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল ২০২৬।

আইন অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ৬০(সি) ধারার অধীনে এই হোম ভোটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যোগ্য ভোটারদের বিজ্ঞপ্তি জারির পাঁচ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে।

ইসিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, কেরল, অসম ও পুদুচেরিতে মোট ১,৬৭,৩৬১ জন ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটার এই সুবিধার জন্য অনুমোদিত হয়েছেন। এর মধ্যে কেরলে ১,৪৫,৫২১ জন, অসমে ১৯,৭৭৪ জন এবং পুদুচেরিতে ২,০৬৬ জন রয়েছেন।

শতাংশের হিসাবে কেরলে ৭১.২৭ শতাংশ, অসমে ১৯.৩২ শতাংশ এবং পুদুচেরিতে ৩৪.৩১ শতাংশ প্রবীণ ভোটার এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া ৭০,৪৯৯ জন প্রতিবন্ধী ভোটারও হোম ভোটিংয়ের জন্য অনুমোদিত হয়েছেন। এর মধ্যে কেরলে ৬২,২৪০ জন, অসমে ৬,৬৩৮ জন এবং পুদুচেরিতে ১,৬২১ জন রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণকারী দল আগাম ভোটারদের বাড়িতে যাওয়ার সময়সূচি জানাবে। নিরাপত্তারক্ষী-সহ নির্বাচনী কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করা হবে, যদিও গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।

ইতিমধ্যেই কেরল, অসম ও পুদুচেরিতে হোম ভোটিংয়ের প্রথম দফা শুরু হয়েছে, যা ৫ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে। প্রথম দফায় অনুপস্থিত ভোটারদের জন্য দ্বিতীয় দফা আয়োজন করা হবে।

স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকেও হোম ভোটিংয়ে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের তালিকা দেওয়া হবে এবং তারা প্রতিনিধিও পাঠাতে পারবে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে।

ইসিআই-এর মতে, এই উদ্যোগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।

Leave a Reply