নেপালে প্রাক্তন জ্বালানি মন্ত্রী দীপক খাডকা গ্রেফতার, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ

কাঠমান্ডু, ২৯ মার্চ (আইএএনএস): মানি লন্ডারিং মামলায় নেপালের প্রাক্তন জ্বালানি, জলসম্পদ ও সেচমন্ত্রী তথা নেপালি কংগ্রেস নেতা দীপক খাডকা-কে রবিবার ভোরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি)-র মুখপাত্র এসএসপি শিবা কুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, কাঠমান্ডুর মহারাজগঞ্জ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে খাডকাকে আটক করা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘জেন জেড আন্দোলন’-এর সময় তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সন্ধান মেলে। সেই সূত্রেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাক-কে ওই আন্দোলন দমনে জড়িত খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে ওলি মন্ত্রিসভার তৃতীয় সদস্য হিসেবে খাডকার গ্রেফতারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আন্দোলনের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে প্রতিবাদকারীদের হাতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ছুড়ে ফেলতে দেখা যায়। একইসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা-র বাসভবন থেকেও পোড়া নোটের ছবি সামনে আসে, যা পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় সত্য বলে নিশ্চিত হয়।

মানি লন্ডারিং তদন্ত দফতর আগেই খাডকার বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দফতরে চিঠি পাঠিয়েছিল। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও সক্রিয় খাডকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

মন্ত্রী থাকাকালীন নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির তৎকালীন প্রধান কুল মান ঘিসিং-এর সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব এবং পরবর্তীতে ঘিসিংয়ের অপসারণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের লাইসেন্স ও চুক্তি বণ্টনে অনিয়ম, আর্থিক সুবিধা নেওয়া এবং কাঠমান্ডুতে নেপাল স্কাউটসের জমি আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

এদিকে, ‘জেন জেড আন্দোলন’ দমনে ভূমিকার অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাককে রবিবার কাঠমান্ডু জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশ, আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে।

সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের ওই আন্দোলনে মোট ৭৭ জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৮৪ বিলিয়ন নেপালি রুপির সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। তদন্ত কমিশন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগ আনার সুপারিশ করেছে, দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া কেপি শর্মা ওলি বর্তমানে অসুস্থ থাকায় তাঁকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতে পেশ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply