প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দ্রুত বিচারব্যবস্থার ওপর জোর উপ-রাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণনের

নয়াদিল্লি, ২৯ মার্চ (আইএএনএস) : দেশের নাগরিকদের জন্য সুলভ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সময়মতো বিচার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর আইনি পরিষেবার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিলেন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন।

আইন ও বিচার মন্ত্রকের বিচার বিভাগ আয়োজিত এক জাতীয় পরামর্শ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আইনি ক্ষমতায়নের মূল ভিত্তি তিনটি—অন্তর্ভুক্তি, গুণমান ও জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহার।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে কতটা তা সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে এবং তাদের ক্ষমতায়ন করতে পারছে তার ওপর।

তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন বিচারপ্রক্রিয়ার গুণমান ও জবাবদিহিতাকে ক্ষুণ্ণ না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন উপ-রাষ্ট্রপতি।

নরেন্দ্র মোদী-র ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’ ভিশনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উপনিবেশিক আমলের আইন, যা শাসনের জন্য তৈরি ছিল, তা বদলে নাগরিককেন্দ্রিক নতুন ফৌজদারি আইন প্রবর্তন একটি বড় পদক্ষেপ।

তিনি উল্লেখ করেন, টেলি-ল’ উদ্যোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি পরিষেবাকে গণতান্ত্রিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। প্রি-লিটিগেশন স্তরেই অনেক সমস্যা সমাধান হওয়ায় মামলার চাপও কমছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষায় আইন উপলব্ধ করার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেন, টেলি-ল’ প্রকল্পের ফলে এখন আর আইনি সাহায্যের জন্য শহরে যাওয়া বা আইনজীবীর কাছে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক নয়—গ্রামাঞ্চলেও ‘ডোরস্টেপ জাস্টিস’ পৌঁছে যাচ্ছে। তিনি আইনজীবীদের প্রো-বোনো পরিষেবার ওপরও গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে ‘ভয়েস অফ বেনিফিশিয়ারিজ ২০২৫–২৬’ বুকলেট প্রকাশ করা হয়, যেখানে টেলি-ল’ পরিষেবার মাধ্যমে উপকৃত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

এই বৈঠকে ‘ডিজাইনিং ইনোভেটিভ সলিউশনস ফর হোলিস্টিক অ্যাক্সেস টু জাস্টিস’ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের টেলি-ল’ আইনজীবী, গ্রামস্তরের উদ্যোক্তা এবং উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর আইনি সহায়তার বাস্তব প্রভাব তুলে ধরা হয়।

এদিন ‘ন্যায় সেতু’ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটও চালু করা হয়, যা নাগরিকদের আইনি অধিকার সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য ও পরামর্শ দেবে এবং টেলি-ল’ পরিষেবা ব্যবহারে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে দিল্লির ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় তৈরি আইনি সচেতনতা বিষয়ক কমিক বইও প্রকাশ করা হয়।

প্রায় ১,২০০ জন প্রতিনিধি—যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ই-কমিটি, ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি, আইনজীবী, সরকারি কৌঁসুলি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও, জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply