নয়াদিল্লি, ২৮ মার্চ(আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার উত্তরপ্রদেশের জেওরে নয়ডা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট-এর উদ্বোধন করলেন। এর ফলে জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর)-এর বিমান পরিকাঠামোয় নতুন অধ্যায় শুরু হল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা একটি প্রদর্শনীও ঘুরে দেখেন।
প্রায় ১১,২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের প্রথম ধাপ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং শীঘ্রই পরিষেবা শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, এই বিমানবন্দর এনসিআর-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে উঠবে। এটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর পাশাপাশি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কাজ করবে।
দুই বিমানবন্দর মিলিয়ে একটি সমন্বিত এভিয়েশন নেটওয়ার্ক তৈরি হবে, যা যাত্রীচাপ কমাবে, পরিষেবার ক্ষমতা বাড়াবে এবং দিল্লি-এনসিআর-কে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সাহায্য করবে।
দেশের বৃহত্তম গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর প্রকল্পগুলির অন্যতম এই বিমানবন্দর প্রথম পর্যায়ে বছরে প্রায় ১.২ কোটি যাত্রী পরিষেবা দিতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা বাড়িয়ে বছরে ৭ কোটি যাত্রী পর্যন্ত করা যাবে।
এখানে ৩,৯০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে তৈরি হয়েছে, যেখানে বড় আকারের বিমান ওঠানামা করতে পারবে। উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম এবং আধুনিক এয়ারফিল্ড লাইটিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সব ধরনের আবহাওয়ায় বিমান পরিষেবা চালানো সম্ভব হবে।
এছাড়া রয়েছে মাল পরিবহণের জন্য আধুনিক মাল্টি-মোডাল কার্গো হাব, ইন্টিগ্রেটেড কার্গো টার্মিনাল এবং লজিস্টিক জোন। প্রাথমিকভাবে বছরে প্রায় ২.৫ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য পরিবহণের সক্ষমতা থাকলেও, তা বাড়িয়ে প্রায় ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন করা যাবে।
৪০ একর জুড়ে একটি মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল সুবিধাও গড়ে তোলা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্মিত এই বিমানবন্দরকে ‘নেট-জিরো এমিশন’ প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর নকশায় ভারতীয় ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে—ঘাট ও হাভেলির আদলে স্থাপত্য তৈরি করা হয়েছে।
উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। একাধিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

