কেরলে ‘সিএম ধাঁধা’ ঘিরে জল্পনা, কংগ্রেসের বার্তা—ধৈর্য ধরুন

তিরুবনন্তপুরম, ২৬ মার্চ(আইএএনএস): কেরলে মুখ্যমন্ত্রী (সিএম) পদ নিয়ে জল্পনা ক্রমেই রাজনৈতিক নাটকের রূপ নিচ্ছে। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার এই বিতর্ককে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, তবুও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ‘সিএম ধাঁধা’ এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখনই মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে আলোচনা করার কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই দলীয় হাইকম্যান্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

থারুর আরও বলেন, ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে এবং এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে বিতর্ক অপ্রাসঙ্গিক। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, নেমম কেন্দ্রে সাবারীনাথন ভালো ফল করবেন।

উল্লেখ্য, নেমম আসনটি ২০১৬ সালে বিজেপি জিতলেও ২০২১ সালে তারা তা হারায়। এবারের নির্বাচনে রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর সেখানে জয়ের জন্য জোর প্রচার চালাচ্ছেন।

এদিকে কংগ্রেসের ভেতরে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মতবিরোধ না থাকলেও, বিভিন্ন নেতার মন্তব্য ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। ভি.ডি. সতীসান, রমেশ চেনিথালা, কে. সুধাকরণ এবং কে. মুরালেধরন-এর প্রতিটি মন্তব্যই রাজনৈতিক মহলে বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠছে।

বুধবার প্রবীণ নেতা পি.জে. কুরিয়েন-এর একটি সাধারণ মন্তব্যও বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। মুহূর্তের মধ্যে তা ‘ব্রেকিং নিউজ’-এ পরিণত হয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দেয়।

তবে ইউডিএফ শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে একটাই বার্তা দেওয়া হচ্ছে। মুসলিম লিগ নেতা পি. কে. কুনহালিকুট্টি জানান, মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কোনও বিভেদ নেই এবং নির্বাচনের পর কংগ্রেস যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিকেই সমর্থন করা হবে।

অন্যদিকে, বামফ্রন্ট নেতৃত্বাধীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) ইতিমধ্যেই জয়ের দাবি করছে এবং তাদের তরফ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী হবে বলে আত্মবিশ্বাসী। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি সহজ নয়। প্রথমবারের মতো দলের ছয়জন সিনিয়র নেতা (যার মধ্যে তিনজন প্রাক্তন বিধায়ক রয়েছেন) দল ছেড়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভি.এস. অচুথানন্দন-এর ব্যক্তিগত সহকারীও দলত্যাগ করেছেন।

সব মিলিয়ে, কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নীরব থাকলেও, কেরলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সিএম ধাঁধা’ এখন এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply