নয়াদিল্লি, ২৬ মার্চ (আইএএনএস) : দেশে অনেক মুসলিম নিজেদের “কোণঠাসা, অনিরাপদ এবং অপমানিত” মনে করছেন বলে দাবি করলেন মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি। বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একক কোনও ঘটনার জন্য নয়, বরং ধারাবাহিক কিছু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক আচরণের কারণে এই অনুভূতি তৈরি হচ্ছে।
জামিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ-এর সভাপতি মাদানির অভিযোগ, দেশে বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকলেও সমস্যা বাড়ে তখনই, যখন প্রশাসন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিক্রিয়ায় অসঙ্গতি দেখা যায়। “যাদের অন্যায় রুখে ন্যায় নিশ্চিত করার কথা, তারাই অনেক সময় চোখ বন্ধ করে থাকছেন,” বলেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে কি না—এই প্রশ্নে মাদানি জানান, এমন ধারণা ক্রমশ বাড়ছে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার উল্লেখ করেননি।
অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি ধর্মের দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। “যে কোনও ব্যক্তি, সে যে ধর্মেরই হোক, যদি বৈধ কাগজপত্র না থাকে, তাহলে তাকে দেশে থাকতে দেওয়া উচিত নয়,” বলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় ভারতীয় মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দেগে দেওয়া হয়।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়েও অসন্তোষের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অসন্তোষ শুধু মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যেও রয়েছে।
গুজরাটের প্রস্তাবিত ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মাদানি জানান, বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার পরই সংগঠন তাদের অবস্থান জানাবে।
এছাড়া উত্তরপ্রদেশে রাস্তার উপর ঈদের নামাজ পড়া নিয়ে বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে যে রাস্তায় কোনও ধর্মীয় কার্যকলাপ হবে না, তাহলে সেই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত, একতরফা নয়।”
অন্যদিকে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি সম্পর্কে মাদানি বলেন, তিনি একজন দক্ষ ব্যক্তি এবং নিজের মতো করে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

