মুখ্যমন্ত্রী ও এসপি’র কাছে সদ্য স্বামীহারা গৃহবধূর সাহায্যের আবেদন

বিশালগড়, ২৫ মার্চ : রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মার কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সদ্য স্বামীহারা গৃহবধূ সুপ্রিয়া শীল মজুমদার। বুধবার দুপুরে চড়িলাম ব্লকের চেছুড়িমাই গ্রাম পঞ্চায়েতের চ্যাটার্জি কলোনি এলাকায় এই ঘটনা সামনে আসে।

জানা যায়, সুপ্রিয়া শীল মজুমদারের স্বামী স্বপন মজুমদার গত ১৬ মার্চ চড়িলাম পরিমল চৌমুহনি বাজারে বাজার পাহারা দেওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী লরির ধাক্কায় নিহত হন। ঘটনার প্রায় ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ঘাতক লরিটিকে আটক করতে পারেনি বিশালগড় থানার পুলিশ।

অভিযোগ, গৃহবধূ ইতিমধ্যেই বিশালগড় থানায় এবং সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। এমনকি ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ থেকে লরির ছবি সংগ্রহ করে পুলিশকে দিয়েছেন। কিন্তু এরপরেও পুলিশের তরফে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লরির নম্বর স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে না।

এদিকে, সুপ্রিয়া দেবী অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য। তার দুই ছোট ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে শান্তনু মজুমদার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে রাজদীপ মজুমদার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তার কাঁধে এসে পড়েছে। তিনি নিজেও দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালান।

গৃহবধূর অভিযোগ, যদি দ্রুত ঘাতক লরিটিকে সনাক্ত করে আটক করা না হয়, তবে কোনও সরকারি ক্ষতিপূরণ বা সহায়তাও পাওয়া সম্ভব হবে না। ফলে তার দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার রাতে লরিটি বিশ্রামগঞ্জ, বিশালগড় ও আমতলী থানার নাকা পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলে সহজেই গাড়িটিকে শনাক্ত করা সম্ভব বলে তার দাবি। তবে পুলিশ কেন সেই পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুপ্রিয়া শীল মজুমদার মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ সুপারের কাছে আর্জি জানান, যাতে দ্রুত ঘাতক গাড়িটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়।

এলাকাবাসীরও দাবি, প্রশাসন আন্তরিক হলে অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়িটিকে আটক করা সম্ভব। এখন মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপই একমাত্র ভরসা বলে মনে করছেন অসহায় গৃহবধূ ও স্থানীয় মানুষজন।

Leave a Reply