আগরতলা, ২৩ মার্চ : গবাদি পশু পরিবহণে অনুমতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা সরকারকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। ধ্যান ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেয় আদালত।
একক বিচারপতি অমরনাথ গৌড়ের বেঞ্চে মামলার শুনানিতে আদালত নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ট্রানজিট পারমিট ইস্যু করতে হবে এবং ত্রিপুরা থেকে ঝাড়খণ্ডে গবাদি পশু পরিবহণে সবরকম সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে আইনসম্মতভাবে পশু পরিবহণে বাধা দেওয়ার কোনও বিধিবদ্ধ ক্ষমতা রাজ্য সরকারের নেই।
শুনানির সময় বিচারপতি সরকারের যুক্তি খারিজ করে প্রশ্ন তোলেন, ত্রিপুরায় যেখানে পশুখাদ্যের দাম কেজি প্রতি প্রায় ২৪.৭০ টাকা, সেখানে অন্য রাজ্যে তা মাত্র ১ টাকা—এই অজুহাতে আগে পশুখাদ্য দিতেও অস্বীকার করা হয়েছে। একইসঙ্গে পশুগুলি স্থানান্তরের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় ক্রমবর্ধমান সংখ্যক গবাদি পশুর জন্য পর্যাপ্ত জমি ও ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যের ব্যবস্থা সরকার করবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।
সরকারি আইনজীবীর সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে বিচারপতি আরও বলেন, আজ যদি আবেদনকারী সংস্থা এই রাজ্য ছেড়ে চলে যায়, তবে বর্তমানে যে হাজার হাজার গবাদি পশুর দায়িত্ব তারা নিয়েছে, তার জন্য কি সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করবে?
সরকারি পক্ষ ‘সম্ভবত করবে’ বলে জানালে আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে এবং বলে, সুনির্দিষ্ট উত্তর না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পরিবহণের অনুমতি আটকে রাখা হচ্ছে।
আদালত আরও জানায়, পূর্বে রাজ্য সরকার দাবি করেছিল যে গবাদি পশুগুলি রাজ্যের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগতভাবে বণ্টন করা হবে। তবে প্রচলিত আইন প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস (কেস প্রপার্টি অ্যানিম্যালসের যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ) বিধি, ২০১৭-তে এমন কোনও বিধান নেই। পাশাপাশি ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে গবাদি পশু পাচারের ঘটনাও উদ্বেগজনক, ফলে ব্যক্তিগত হাতে তুলে দিলে পশুগুলির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও মন্তব্য করে আদালত।
আবেদনকারী সংস্থার পক্ষে আইনজীবী হরিশ পান্ড্য জানান, রাজ্য তাদের জবাবি হলফনামায় এই ধরনের কোনও যুক্তিই আগে তুলে ধরেনি। এ নিয়ে আদালত রাজ্যকে ‘খণ্ড খণ্ডভাবে’ জবাব দেওয়ার কারণও জানতে চায়।
উল্লেখ্য, ধ্যান ফাউন্ডেশন বর্তমানে ত্রিপুরায় বিএসএফ উদ্ধার করা প্রায় ২,১০০টি গবাদি পশুর দেখভাল করছে এবং ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়ায় তাদের গোশালায় প্রায় ২২,০০০ পশু রয়েছে। সংস্থার দাবি, ঝাড়খণ্ডে উন্নত পরিকাঠামো, কম খরচে খাদ্য এবং নিরাপত্তার দিক থেকে সুবিধা থাকায় পশুগুলিকে সেখানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
আদালত সংস্থার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে জোর করে পশুগুলিকে এখানে আটকে রাখা নিষ্ঠুরতার শামিল। একইভাবে দীর্ঘ সময় পরিবহণ আটকে রাখাও পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা। তাই নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

