আগরতলা, ২৩ মার্চ: রাজ্যের প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে পানীয়জল সরবরাহ করার লক্ষ্যে পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তর মিশন মুডে কাজ করে চলেছে। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমার আনা একটি দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গভীর নলকূপ, স্বল্প ব্যাসের গভীর নলকূপ, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও উদ্ভাবনীমূলক (ইনোভেটিভ) প্রকল্প ইত্যাদি বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় পানীয়জল সরবরাহ করা হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তরকে বাঁচাতে জল সংরক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে পূর্ত (পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান) দপ্তর বিভিন্ন এলাকায় নদী, ছড়া, জলাধার এবং ঝর্ণার জলকে কেন্দ্র করে অনেক সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও উদ্ভাবনীমূলক প্রকল্প ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে এবং আরও কয়েকটির কাজ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পগুলি ব্যয় সাপেক্ষ এবং সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় বেশি ব্যয়িত হয়। এরপরেও পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তর জল জীবন মিশন প্রকল্পের আওতায় সারফেস ওয়াটারকে প্রাধান্য দিয়ে এই সমস্ত প্রকল্প তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, এই রাজ্যের বাৎসরিক ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণের মাত্র ১০.০৬ শতাংশ জল ব্যবহারের জন্য উত্তোলন করা হয়। রাজ্যে সারফেস ওয়াটারকে ভিত্তি করে গড়ে উঠা ছোট বড় ১৫৪টি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ইনোভেটিভ টাইপ প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। এরমধ্যে গ্রামীণ এলাকায় রয়েছে ১৩৬টি এবং শহরাঞ্চলে ১৮টি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের শহর এলাকায় একটি ও গ্রামীণ এলাকায় ৭১টি সারফেস ওয়াটারকে ভিত্তি করে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ইনোভেটিভ টাইপ প্ল্যান্ট তৈরির কাজ পরিকল্পনা অনুসারে হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সাব্রুম নগর এলাকায় ১টি, দশদা ব্লক এলাকায় ৬টি, জম্পুইহিল ব্লক এলাকায় ২টি, লালজুরি ব্লক এলাকায় ১টি, কদমতলা ব্লক এলাকায় ৩টি, কলাছড়া ব্লক এলাকায় ১টি, পেঁচারথল ব্লক এলাকায় ২টি, কুমারঘাট ব্লক এলাকায় ৩টি, আমবাসা ব্লক এলাকায় ১টি, ছামনুতে ২৬টি, ডম্বুরনগরে ২টি, গঙ্গানগরে ১টি, মনুতে ৮টি, দুর্গাচৌমুহনিতে ২টি, মুঙ্গিয়াকামী ব্লক এলাকায় ৩টি, সাতচাঁদে ১টি, পোয়াংবাড়িতে ১টি, জম্পুইজলা ব্লক এলাকায় ১টি, কাকড়াবনে ১টি, মাতাবাড়িতে ১টি, কিল্লাতে ১টি, অমরপুরে ২টি এবং করবুক ব্লক এলাকায় ২টি তৈরি করা হবে। এছাড়াও আরও ২৭টি বিভিন্ন ব্লক এলাকায় সারফেস ওয়াটারকে ভিত্তি করে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ইনোভেটিভটাইপ প্ল্যান্ট তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে দশদায় ৩টি, লালজুরিতে ২টি, ছামনুতে ১৩টি এবং মনু ব্লক এলাকায় ৯টি তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

