সাতারায় জেডপি ভোট ঘিরে বিতর্ক: মন্ত্রীর উপর হামলার অভিযোগে এসপি সাসপেন্ড

মুম্বই, ২৩ মার্চ: মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদে সোমবার তুমুল হইচইয়ের মধ্যে সাতারা জেলার পুলিশ সুপার তুশার দোশি-কে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, জেডপি নির্বাচনের সময় সাতারার গার্ডিয়ান মন্ত্রী শম্ভুরাজ দেসাই-এর সঙ্গে পুলিশ দুর্ব্যবহার করে এবং তাঁকে আঘাত করে।

বিধান পরিষদের উপ-সভাপতি নীলাম গোরহে বলেন, “এই সভার দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী সদস্য, বিশেষ করে মন্ত্রীর বক্তব্যকে সত্য হিসেবে ধরা হয়। তাই অবিলম্বে সাতারার এসপি এবং ঘটনায় জড়িত সকল পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিচ্ছি।”

ঘটনাটি ঘটে সাতারা জেলা পরিষদের সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালীন। অভিযোগ, শিবসেনা ও এনসিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি সত্ত্বেও নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়, যার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মন্ত্রী শম্ভুরাজ দেশাই জানান, প্রায় ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রের কাছে পৌঁছনোর সময় প্রায় ১০০ জন সাদাপোশাকের পুলিশ তাঁদের আটকে দেয় এবং জোর করে টেনে নিয়ে যায়।

দেশাই বলেন, “আমি একজন মন্ত্রী হয়েও পুলিশের হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছি, হাতে গুরুতর চোট লেগেছে। যদি একজন মন্ত্রী নিরাপদ না হন, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা?”

এনসিপি নেতা মাকরন্দ পাটিল আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট এসপিকে শুধু সাসপেন্ড নয়, বরখাস্ত করা উচিত।

শিবসেনা নেত্রী মনীষা কায়ান্ডে এবং বিক্রম কালে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন। অন্যদিকে, বিজেপি মন্ত্রী জয়কুমার গোরে এই সাসপেনশনের বিরোধিতা করে বলেন, “ঘটনার পূর্ণ সত্য না জেনে আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা ঠিক নয়।”

উপ-সভাপতি নীলম গোরে পুনে ডিভিশনাল কমিশনারকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের কথাও বলেছেন।

উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ঘটনাটিকে “গণতন্ত্রের হত্যা” বলে অভিহিত করেন। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবী জানিয়েছেন, তদন্তের ভিত্তিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply