আগরতলা, ২০ মার্চ: দেরাদুনে ত্রিপুরার ছাত্র এঞ্জেল চাকমা হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুজন কিশোর। প্রধান অভিযুক্ত পালিয়ে রয়েছে। পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রচেষ্টা জারি রয়েছে। আজ রাজ্য বিধানসভায় বিধায়ক পল দাংশুর আনা একটি নোটিশের উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, পলাতক প্রধান অভিযুক্তের সন্ধান পেতে দেরাদুন পুলিশ ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং উত্তরাখন্ড পুলিশ সদর দপ্তর তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদানে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এবং তল্লাসী অভিযান জারি রয়েছে। লুক আউট সার্কুলার ও ব্লু কর্নার নোটিশ জারির মতো আইনগত পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতে মামলাটির শুনানি চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এঞ্জেল চাকমার মৃত্যুর বিষয়টি খুবই হৃদয়বিদারক এবং স্পর্শকাতর বিষয়। তিনি বলেন, যেদিন এই ঘটনা ঘটে সেদিন থেকেই তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে খোঁজখবর রেখেছেন। ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামির সাথে তিনি কথা বলেছেন। পরবর্তী সময়ে আবার উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আশ্বাস দেন যে যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার সদস্য সান্ত্বনা চাকমা ও টিংকু রায় মাছমারাস্থিত এঞ্জেল চাকমার বাড়িতে যান এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজদের সঙ্গে দেখা করেন ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। ঐদিনই ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান এবং উত্তরাখন্ড সরকারের পক্ষ থেকে ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৫০০ টাকার চেক এঞ্জেল চাকমার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে ১৪ জানুয়ারি নন্দননগরস্থিত এঞ্জেল চাকমার বাড়িতে যান এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনদের সাথে দেখা করেন। এঞ্জেল চাকমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান এবং শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেও শিল্পমন্ত্রী সান্তনা চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

