চেন্নাই, ১৮ মার্চ: বিধানসভা নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ু জুড়ে নজরদারি আরও কড়া করতেই মাত্র দু’দিনের মধ্যে ২৩.২৮ কোটি টাকার অঘোষিত নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে বেআইনি প্রলোভন রুখতে কমিশনের এই তৎপরতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্চনা পটনায়কের জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন রুখতে তামিলনাড়ুর সবকটি ২৩৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
কমিশনের দাবি, ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ অর্থ বা সামগ্রী বিতরণের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানের অংশ হিসেবেই এই বাজেয়াপ্তের ঘটনা ঘটেছে।
কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৯টি করে ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৯টি করে স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, গোটা রাজ্যে মোট ২,১৬০টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং সমসংখ্যক ক্ষেত্র নজরদারি দল সক্রিয় রয়েছে। ফলে রাজ্যজুড়ে একটি বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও, আয়কর দফতর, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, শুল্ক দফতর-সহ বিভিন্ন সংস্থার আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত ২৫টি আন্তঃবিভাগীয় দল তল্লাশি ও অভিযানে অংশ নিচ্ছে। অঘোষিত টাকার লেনদেন, বেআইনি সামগ্রী বিলি এবং ভোট-সম্পর্কিত অন্য অনিয়ম চিহ্নিত করাই এই যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নির্বাচনী খরচের সর্বোচ্চ সীমা ৪০ লক্ষ টাকা। এই সীমা যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সে জন্য সমস্ত নির্বাচনী ব্যয়ের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং খুঁটিনাটি হিসাব নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে সারা রাজ্যে ১.৬৮ লক্ষ বেআইনি পোস্টার ও বিজ্ঞাপন অপসারণ করা হয়েছে বলেও জানান অর্চনা পটনায়ক। পাশাপাশি, বিভিন্ন বিধিভঙ্গের ঘটনায় ৬১টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে ফৌজদারি পদক্ষেপও শুরু হয়েছে।
তামিলনাড়ুর মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর রাজ্যে নির্বাচনের সময় অর্থবল এবং বেআইনি প্রলোভনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের এই বাড়তি সতর্কতা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটারদের বেআইনিভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী—কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর যখন রাজনৈতিক প্রচার ক্রমশ জোরদার হচ্ছে, তখন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক নজরদারি এবং দ্রুত পদক্ষেপের পথেই এগোচ্ছে

