কলকাতা, ১৪ মার্চ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার বিকেলে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার আয়োজিত একটি বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন। এদিনের এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই রাজ্যে দলের ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সমাপ্তি ঘটবে। চলতি বছরের শেষের দিকে নির্ধারিত বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিজেপি।
জানা গেছে, ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী দুটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন—একটি প্রশাসনিক এবং অন্যটি রাজনৈতিক। এই দুটি কর্মসূচির জন্য পাশাপাশি দুটি আলাদা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিক অনুষ্ঠানের মঞ্চটি প্রধান মঞ্চের পিছনে তৈরি করা হয়েছে, সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন।
বিজেপির এক রাজ্য কমিটি সদস্য জানান, প্রশাসনিক কর্মসূচি শেষ করার পর প্রধানমন্ত্রী মূল মঞ্চে গিয়ে রাজনৈতিক ভাষণ দেবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বৈত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই মধ্য কলকাতাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থল ও সংলগ্ন এলাকাকে “নো-ফ্লাই জোন” ঘোষণা করা হয়েছে। ওই এলাকায় ড্রোন ওড়ানোও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
র্যালির নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৩,০০০ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। আশপাশের উঁচু ভবনগুলির ছাদেও নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে গোটা এলাকা নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রাখা যায়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি কমিশনাররা। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করবেন জয়েন্ট কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক। এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রাস্তায় থাকবেন।
অন্যদিকে, শুক্রবার রাত থেকেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। ওই পোস্টারগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বকেয়া অর্থ রাজ্য সরকারকে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যে রাস্তাগুলি দিয়ে যাবে, সেসব জায়গায় বিশেষভাবে এই পোস্টার দেখা গিয়েছে। কিছু জায়গায় “গো ব্যাক মোদি” লেখা পোস্টারও লাগানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি বিজেপিও শহরজুড়ে সমাবেশের প্রচার পোস্টার এবং প্রধানমন্ত্রীর বড় কাটআউট লাগিয়েছে।

