ভারতের পরিষেবা রপ্তানি জিডিপির ১০ শতাংশে পৌঁছেছে, বাণিজ্য চুক্তিতে নতুন সুযোগ

নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ: ভারতের পরিষেবা রপ্তানি চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫–২৬-এ শক্তিশালী গতিতে এগিয়ে চলেছে। বৈশ্বিক বাজারে ভারতীয় পরিষেবার ধারাবাহিক চাহিদার জেরে এপ্রিল-জানুয়ারি সময়ে পরিষেবা রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩৪৮.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে শনিবার প্রকাশিত এক সরকারি তথ্যপত্রে জানানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতের মোট জিডিপির গড়ে প্রায় ৯.৭ শতাংশ এসেছে পরিষেবা রপ্তানি থেকে। মহামারির আগের সময়ে যেখানে এই হার ছিল প্রায় ৭.৪ শতাংশ।

সরকারি তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে এই অবদান আরও বেড়ে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে পরিষেবা খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে।

পরিষেবা খাত কর্মসংস্থান তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে দেশে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৩০ শতাংশই এই খাত থেকে আসে। গত ছয় বছরে এই খাতে প্রায় ৪ কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সময়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের পরিষেবা রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে উঠে এসেছে।

পরিষেবা খাতে বিদেশি বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে মোট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) গড়ে প্রায় ৮০.২ শতাংশ এসেছে পরিষেবা খাতে, যা মহামারির আগে ছিল প্রায় ৭৭.৭ শতাংশ।

এই বিনিয়োগের বড় অংশ এসেছে তথ্য ও যোগাযোগ পরিষেবা (২৫.৮ শতাংশ) এবং পেশাদার পরিষেবা খাতে (২৩.৮ শতাংশ), যা ডিজিটাল ও জ্ঞানভিত্তিক পরিষেবায় ভারতের শক্তিকে তুলে ধরে।

এছাড়া, ভারতের বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির নেটওয়ার্কও পরিষেবা খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় পেশাদারদের বৈশ্বিক চলাচল সহজ হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা দেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব—এই তিনের সমন্বয়ে ভারতের পরিষেবা খাত ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশের বৃদ্ধির গল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।”

Leave a Reply