নয়াদিল্লি, ১২ মার্চ : নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন নজরদারি সহ একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ভারতীয় রেলপথ। বৃহস্পতিবার লোকসভায় লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় পরিবহণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেই কারণে বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে বা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রেলওয়ের নেটওয়ার্কে ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মেশিন ভিশন ইন্সপেকশন সিস্টেম (এমভিআইএস), হুইল ইমপ্যাক্ট লোড ডিটেক্টর, রোলিং স্টকের অনলাইন মনিটরিং (ওএমআরএস) এবং ইন্টিগ্রেটেড ট্র্যাক মনিটরিং সিস্টেম (আইটিএমএস)।
বৈষ্ণব জানান, এমভিআইএস একটি এআই ও মেশিন লার্নিং-ভিত্তিক প্রযুক্তি, যা চলন্ত ট্রেনে ঝুলে থাকা, ঢিলে বা অনুপস্থিত যন্ত্রাংশ শনাক্ত করতে সক্ষম।
বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলে তিনটি এমভিআইএস ইউনিট বসানো হয়েছে। এছাড়া ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (ডিএফসিসিআইএল)-এ দুটি এবং দক্ষিণ-পূর্ব মধ্য রেলে একটি ইউনিট বসানো হয়েছে মালবাহী রেকের জন্য।
এছাড়া আরও চারটি এমভিআইএস ইউনিট চালুর জন্য রেলওয়ে ডিএফসিসিআইএলের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছে।
রেলমন্ত্রী আরও জানান, গবেষণা নকশা এবং মান সংস্থা (আরডিএসও) শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথভাবে রোলিং স্টকের জন্য এমভিআইএস প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ করছে।
হুইল ইমপ্যাক্ট লোড ডিটেক্টর ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনের চাকার ত্রুটি শনাক্ত করা যায়। এই প্রযুক্তি রেললাইনে চাকার আঘাতের মাত্রা পরিমাপ করে ত্রুটিপূর্ণ চাকা চিহ্নিত করে। বর্তমানে রেল নেটওয়ার্কে মোট ২৪টি এমন ব্যবস্থা বসানো হয়েছে।
অন্যদিকে রোলিং স্টকের অনলাইন পর্যবেক্ষণ (ওএমআরএস) ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনের বিয়ারিং ও চাকার অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। এখন পর্যন্ত ২৫টি ওএমআরএস ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি তেলেঙ্গানার সিরপুর কাগজনগরে দক্ষিণ মধ্য রেলের সেকেন্দ্রাবাদ ডিভিশনে রয়েছে।
রেললাইন পরিদর্শনের জন্য ইন্টিগ্রেটেড ট্র্যাক মনিটরিং সিস্টেম (আইটিএমএস) ব্যবহার করা হচ্ছে। মেশিন লার্নিং ও ইমেজ প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি রেললাইন, স্লিপার এবং ফাস্টেনিংয়ের ত্রুটি শনাক্ত করতে পারে।
এছাড়া রায়পুর ডিভিশনে পরীক্ষামূলকভাবে তাপ-চিত্রায়ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওভারহেড ইকুইপমেন্ট পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার শুরু হয়েছে।
এর পাশাপাশি কুয়াশা বা খারাপ আবহাওয়ায় লোকো পাইলটদের সহায়তা করতে ত্রি-নেত্র (লোকোমোটিভ ড্রাইভারদের জন্য ভূখণ্ডের ইমেজিং) নামে একটি প্রযুক্তি তৈরি করছে আরডিএসও। এতে অপটিক্যাল ক্যামেরা, ইনফ্রারেড ক্যামেরা এবং রাডার বা লাইডার ব্যবহার করা হবে।
রেলমন্ত্রী জানান, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও দ্রুত প্রয়োগকে উৎসাহ দিতে সরকার গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন রেল প্রযুক্তি নীতি গ্রহণ করেছে।

