নয়াদিল্লি, ১১ মার্চ: ইরান-কে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে পাকিস্তান-এর জ্বালানি বাজারে। দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপিছু প্রায় ৫৫ টাকা বেড়ে গেছে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
করাচিভিত্তিক সংবাদপত্র ব্যবসা রেকর্ডার-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচলের ব্যয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় পাকিস্তানকে বাধ্য হয়েই এই বাড়তি খরচ ভোক্তাদের উপর চাপাতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ৫৫ টাকার বৃদ্ধি হয়তো শুরু মাত্র। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহণ খরচ, খাদ্যদ্রব্যের দাম এবং ব্যবসার ব্যয় আরও বাড়বে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হতে পারে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে বৈশ্বিক জ্বালানি ধাক্কায় পাকিস্তান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, কারণ দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা অনেকটাই আমদানিনির্ভর। নীতিগতভাবে এটি একটি বড় ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
যদিও পাকিস্তানের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের অভাব নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থর মরুভূমি অঞ্চলের কয়লা ভাণ্ডার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লিগনাইট মজুত, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রায় ১ লক্ষ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
এছাড়া দেশে প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা রয়েছে, যার বড় অংশ এখনও ব্যবহার করা হয়নি। পাশাপাশি সিন্ধু ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে সৌর ও বায়ু শক্তিরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তবু দেশটি নিজস্ব সম্পদের উপর নির্ভর না করে আমদানিকৃত জ্বালানির উপর ভিত্তি করে জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় কৌশলগত ভুল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

