নয়াদিল্লি, ১১ মার্চ: ইরান-কে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। ঢাকাভিত্তিক দৈনিক-এর এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংঘাতের জেরে একাধিক সমস্যার শৃঙ্খল তৈরি হতে পারে—জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রবাহে বাধা, রপ্তানি প্রতিযোগিতায় দুর্বলতা, প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা, রেমিট্যান্স কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর বাড়তি চাপ।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা দফতরের প্রাক্তন প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, এই যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূলত তিনটি পথে পড়তে পারে—জ্বালানি, ডলার এবং বাণিজ্য ও অর্থায়ন খাতের মাধ্যমে। তাঁর মতে, এই ধাক্কা সাময়িক ঝড় নয়, বরং ভূমিকম্পের মতো বড় আকারের হতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব তেলের বাজারে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার ছিল, তা বেড়ে এখন প্রায় ৮৮ ডলারে পৌঁছেছে এবং একসময় চার বছরের সর্বোচ্চ ১১৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
এই পরিস্থিতিতে বড় বড় শিপিং সংস্থাগুলি ভারতীয় উপমহাদেশ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে কার্গো বুকিং সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে, যার ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরশীল—কাঁচা তেল থেকে শুরু করে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম ও এলএনজি পর্যন্ত। ফলে তেলের দাম বাড়লে দেশের জ্বালানি আমদানির খরচ দ্রুত বেড়ে যাবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আতঙ্কে জ্বালানি কেনার প্রবণতা বাড়ায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে এবং জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহণ এবং শিল্প উৎপাদনের খরচও বাড়বে। এতে সরকারকে হয় বেশি ভর্তুকি দিতে হবে, নয়তো জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে—দুই ক্ষেত্রেই অর্থনীতির উপর চাপ বাড়বে।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ বাড়বে, যার ফলে খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।
এছাড়া জ্বালানি আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়লে দেশের রিজার্ভের উপর চাপ পড়বে এবং টাকার মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক। ২০২৫ অর্থবর্ষ থেকে প্রায় ৮৬ লক্ষ বাংলাদেশি বিদেশে কাজ করতে গেছেন, যার প্রায় অর্ধেকই সৌদি আরব-তে কর্মরত। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের চাকরি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ধাক্কা লাগতে পারে।

