আগরতলা, ১০ মার্চ : রাজ্যসভায় কুইন আনারস চাষিদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, রাজ্যের জনজাতি কৃষকদের ন্যায্য মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ত্রিপুরায় একটি আনারস পার্ক, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ এবং রপ্তানির জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজীব ভট্টাচার্য জানান, ত্রিপুরার জনজাতি জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ কুইন আনারস চাষের সঙ্গে যুক্ত। এই আনারস চাষ তাদের জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ৭ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ত্রিপুরার কুইন আনারসকে রাজ্যের সরকারি ফল হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে এই আনারস ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি লাভ করে, যার ফলে দেশ-বিদেশে এই ফলের বিশেষ পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
উপ-রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, ত্রিপুরায় একটি আনারস পার্ক গড়ে তোলা হলে সেখানে আনারস ক্যানিং এবং বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুবিধার্থে একটি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের দাবিও তিনি জানান, যাতে আনারসের গুণমান অক্ষুণ্ণ রেখে বিদেশে পাঠানো যায়।
তিনি বলেন, কুইন আনারস শুধুমাত্র একটি ফল নয়, এটি ত্রিপুরার পরিচয়। আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলে কৃষকদের সহায়তা করা গেলে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে এবং রাজ্যের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, এসব পরিকাঠামো গড়ে উঠলে রাজ্যের জনজাতি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আনারসের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ত্রিপুরার কুইন আনারস বিশ্ববাজারে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এর ফলে রাজ্যের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

