অবৈধ বাংলাদেশীদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছে টিএমসি: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৯ মার্চ: জনগণকে এই তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে, করা গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিম বাংলায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে এবং গণতন্ত্র ও শান্তি পুনরুদ্ধার করতে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠন করতে হবে। আজ পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ বর্ধমানে পরিবর্তন যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় একথা বলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। এই বর্ধমান হচ্ছে বিপ্লবের মাটি, ভক্তির মাটি এবং শিল্পের পবিত্র সঙ্গম স্থল, যেখানে আজ আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি। এই বর্ধমান শুধু ধান আর আলুর জন্য বিখ্যাত নয়, এই মাটি জন্ম দিয়েছে ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। এই জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিংবদন্তি বিপ্লবী রাসবিহারী বসু। আজাদ হিন্দ ফৌজের রূপকার ছিলেন তিনি এবং বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ শাসকের অবহেলায় এই সোনার বর্ধমান ধুঁকছে। এরজন্যই আজকের এই পরিবর্তন যাত্রা। সব জায়গায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মুর্শিদাবাদে হর গোবিন্দ দাস, চন্দন দাস, ভাদুড়িয়ার কার্তিক ঘোষ, সন্দেশখালির হারহিম সন্ত্রাসে শাহাজাহান বাহিনীর হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে প্রদীপ মন্ডল, দেবদাস মন্ডল ও সুকান্ত মন্ডলকে। এখন সরস্বতী পুজো করতে গেলেও অনুমতি লাগে। সরস্বতী পুজো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কালীপুজোর বিসর্জন দিতেও বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। রাম নবমী মিছিলে হামলা পর্যন্ত হয়েছে। এমন অনেক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে এই রাজ্যের মানুষকে। তাই আজ আমাদের শপথ নিতে হবে আমরা কোন তোষণ মানবো না, কোন অবিচার মানবো না।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমি মা ত্রিপুরা সুন্দরীর পুণ্যভূমি থেকে শুধু আপনাদের জন্য এসেছি। কারণ আমরা একই পরিবারের লোক। ভারতীয় জনতা পার্টি আমাদের পরিবার। কাজেই পরিবারে যখন কোন সমস্যা হয়, তখন পরিবারের কাউকে না কাউকে আসতে হয়। আর সেই পরিবারের হয়ে ত্রিপুরা থেকে আমি এখানে এসেছি। এখানকার বর্তমান সরকার সন্ত্রাসের সরকার। গত ১৫ বছর ধরে দুঃশাসন ও কুশাসন কায়েম করে রেখেছে তারা। শুধু নেতারা নয়, ঘরে ঘরে পৌঁছে জনগণকে বলতে হবে কে দেশের জন্য কাজ করছে এবং কে জনগণের জন্য চিন্তা করছে। পশ্চিমবঙ্গে সংস্কৃতি ও গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। বাংলা দুর্নীতির কেন্দ্রস্থলে রূপান্তরিত হয়েছে, যা সিপিএমের আমলে ত্রিপুরায় ছিল। সিপিএম কোনও নিয়ম ছাড়াই ১০,৩২৩ জনকে নিয়োগ করেছিল এবং পশ্চিমবঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে ২৬,০০০ লোক তাদের চাকরি হারিয়েছে। তারা মা, মাটি, মানুষ সম্পর্কে কথা বলে।  কিন্তু তারা নারীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। নারী মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তারা নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেস পরিযায়ী পাখির মতো, তারা আসে এবং যায়। তারা অবৈধ বাংলাদেশীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের সাথেও আমাদের সীমান্ত রয়েছে এবং আমাদের আঁটসাঁট সীমান্ত রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে সরকার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে জমি দিচ্ছে না। ডাঃ সাহা জানান, ত্রিপুরা প্রতিটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে উপকৃত হচ্ছে এবং তারা সঠিকভাবে সেগুলি বাস্তবায়ন করছে, অন্যদিকে বাংলায় দুর্নীতির রেকর্ড রয়েছে।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। মানুষ সেই দিনের অপেক্ষায় আছে যেদিন এই টিএমসিকে সরানো হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় মানুষ এখন ত্রিপুরায় বিনিয়োগ করতে আসছে। আমরা যদি সিপিএমকে সরাতে পারি, তাহলে বাংলায় কেন তা করতে পারছে না? সর্বত্রই অপরাধ ও অনিয়ম। সর্বত্র কেলেঙ্কারি আর দুর্নীতি। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের জন্য আমাদের অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির বর্ধমান জেলার সভাপতি অভিজিত খাঁ, বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ, জেলা ইনচার্জ মনোজ পান্ডে সহ বিভিন্ন মন্ডলের পদাধিকারী ও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।

Leave a Reply