নয়াদিল্লি, ৯ মার্চ (আইএএনএস): শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি—এই ক্ষেত্রগুলিকে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের প্রধান মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ – জনগণের আকাঙ্খা পূরণ’ শীর্ষক পোস্ট-বাজেট ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ‘কেয়ার ইকোনমি’ ও যুবশক্তির ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা, দক্ষতা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই ক্ষেত্রগুলিকে নিয়ে গভীর আলোচনা ও নীতিগত গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারত এখন প্রতিরোধমূলক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। গত কয়েক বছরে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “দেশে বহু জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে উঠেছে। আয়ুষ্মান ভারত এবং আরোগ্য মন্দিরের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেড়েছে। পাশাপাশি যোগ ও আয়ুর্বেদের মতো ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।”
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ‘কেয়ার ইকোনমি’কে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আগামী দশকে দেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কেয়ারগিভারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে দক্ষতাভিত্তিক বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
ওয়েবিনারে উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন ধারণা ও প্রস্তাব দিতে হবে। দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ মডেল ও অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেওয়ার কথাও তিনি বলেন।
দূরবর্তী অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে টেলিমেডিসিনের গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এর সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।
দেশের যুবসমাজের মানসিকতার পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ-তরুণীরা নতুন কিছু করতে এবং উদ্ভাবনের পথে এগোতে আগ্রহী। এই মানসিকতাকেই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নতুন অর্থনীতির সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুক্ত করতে হবে। পাঠ্যক্রমকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উৎপাদন, অটোমেশন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ডিজাইন-নির্ভর অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রগুলিতে জোর দিতে হবে।
যুবসমাজকে ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুবশক্তি তখনই জাতীয় শক্তিতে পরিণত হয়, যখন তারা সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর থাকে।”
ক্রীড়া ক্ষেত্রেও অবকাঠামো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরে দেশে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং অলিম্পিক গেমস-এর প্রস্তুতিও চলছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে তরুণ প্রতিভাদের চিহ্নিত করে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

