আট বছরে বিজেপি সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন প্রদেশ বিজেপি মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য

আগরতলা, ৮ মার্চ: ত্রিপুরায় বিজেপি পরিচালিত সরকারের আট বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন সাফল্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরলেন বিজেপির প্রদেশ প্রবক্তা নবেন্দু ভট্টাচার্য। আজ   প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের মিডিয়া ইনচার্জ সুনীত সরকারও।

সাংবাদিক সম্মেলনে নবেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, ত্রিপুরায় বিজেপি পরিচালিত প্রথম সরকার প্রতিষ্ঠার পর আজ অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই আট বছরে রাজ্যের সর্বস্তরে গুণগত পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, সরকারের কাজকর্মের ইতিবাচক প্রতিফলন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে পড়েছে।

তিনি বলেন, বিজেপি সরকার অন্ত্যোদয়ের লক্ষ্যে কাজ করছে—অর্থাৎ সমাজের সর্বশেষ প্রান্তিক মানুষের কাছেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। বিগত বামফ্রন্ট সরকারের সময়কার বিপুল ঋণের বোঝা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
নবেন্দু ভট্টাচার্য জানান, গত কয়েক বছরে রাজ্যে পরিকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থাকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রমা সেন্টার স্থাপন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রেশনিং ব্যবস্থা, কৃষি, শিক্ষা এবং সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন নবেন্দু ভট্টাচার্য।

তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং নাগরিকরা এখন স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারছেন। আধুনিক চিন্তাধারার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে তিনি মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে জ্যাকসন গেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। এছাড়া বিজেপির ভিশন ডকুমেন্টে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নবেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, ভিশন ডকুমেন্ট অনুযায়ী সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দেওয়া হয়েছে এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিএ ও ডিআর-এর ব্যবধান কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীর চিটফান্ড সংক্রান্ত মন্তব্যেরও জবাব দেন বিজেপির প্রদেশ প্রবক্তা। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার রোজভ্যালি সংস্থার প্রশংসা করেছিলেন এবং তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এমনকি বামফ্রন্ট সরকারের একজন মন্ত্রী রোজভ্যালির এজেন্ট ছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নবেন্দু ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার কেন সাধারণ মানুষকে সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগের আহ্বান না জানিয়ে রোজভ্যালির মতো সংস্থায় টাকা রাখার কথা বলেছিলেন। তাঁর মতে, চিটফান্ড ইস্যু নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হোক—সম্ভবত সেই কারণেই জিতেন্দ্র চৌধুরী এ ধরনের মন্তব্য করছেন।

Leave a Reply