কংগ্রেস শুনানিতে উত্তপ্ত বিতর্ক, সীমান্তে কড়াকড়ি নীতির পক্ষে সাফাই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধানের

ওয়াশিংটন, ৫ মার্চ (আইএএনএস): মার্কিন কংগ্রেসের এক উত্তেজনাপূর্ণ শুনানিতে অভিবাসন নীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়লেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোয়েম। শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা প্রশাসনের কড়া অভিবাসন অভিযান এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নীতির তীব্র সমালোচনা করলেও, নোয়েম প্রশাসনের অবস্থানকে দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেন।

বুধবার (স্থানীয় সময়) কংগ্রেস কমিটির সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নোয়েম বলেন, ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর গঠিত হয়েছিল দেশের সুরক্ষার জন্য। তাঁর কথায়, ৯/১১–এর হামলার পর আমাদের দেশকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই এই দপ্তর তৈরি করা হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, প্রশাসন সীমান্তে কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে এবং আগের প্রশাসনের বেশ কিছু নীতি বদলানো হয়েছে। নোয়েম জানান, গত দশ মাসে সীমান্ত টহল বাহিনী একজনও অবৈধ অভিবাসীকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

নোয়েম আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরেই তিন মিলিয়নেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গিয়েছে। তাঁর মতে, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার আহ্বানের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ানোর ফলে মাদক পাচারও কমেছে বলে দাবি করেন নোয়েম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে ফেন্টানিল পাচার ৫৬ শতাংশ কমেছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১,৫০০-র বেশি সন্দেহভাজন বা পরিচিত সন্ত্রাসবাদী এবং ৭,৭০০-র বেশি গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

শুনানিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা নোয়েমের অবস্থানকে সমর্থন করেন। কমিটির চেয়ারম্যান জিম জোর্ডান বলেন, আগের প্রশাসনের সময় চার বছরে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন মানুষ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। তিনি তথাকথিত “স্যানকচুয়ারি জুরিসডিকশন” বা এমন শহর ও রাজ্যগুলিরও সমালোচনা করেন, যেখানে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত রাখা হয়।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। কমিটির র‍্যাঙ্কিং সদস্য জেমি রাসকিন মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের অভিযানে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে নোয়েমকে প্রশ্ন করেন। তাঁর অভিযোগ, সে সময় ঘটনাটিকে “ঘরোয়া সন্ত্রাসবাদ” বলে উল্লেখ করে দপ্তর পরিস্থিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিল।

জবাবে নোয়েম বলেন, ওই ঘটনাগুলির তদন্ত এখনও চলমান, তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

এদিকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কংগ্রেসওম্যান প্রমিলা জয়াপাল অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পদক্ষেপে নাগরিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, আপনারা আসলে মার্কিন সরকারকেই দেশের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছেন।

তবে নোয়েম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তারা কঠোর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তারা আইন মেনেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেন।

শুনানিতে অভিবাসন নীতির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের ব্যয়, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর মধ্যে ফেডারেল দুর্যোগ ত্রাণে বিলম্ব এবং অভিবাসন নীতি প্রচারের জন্য ২২ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচার নিয়েও আলোচনা হয়।

সব অভিযোগের জবাবে নোয়েম বলেন, তাঁর দপ্তরের প্রধান লক্ষ্য দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা। তাঁর বক্তব্য, আমরা আইন কার্যকর করি এবং আমাদের মাতৃভূমিকে সুরক্ষিত রাখি।

Leave a Reply