ইরান সংকটের মধ্যেও পর্যাপ্ত মজুত, জ্বালানি পরিস্থিতিতে স্বস্তিতে ভারত

নয়াদিল্লি, ৩ মার্চ (আইএএনএস): ইরানকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতার মধ্যেও অপরিশোধিত তেল, এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারত তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি সমপরিমাণ পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুতও রয়েছে, যার মধ্যে দেশের বন্দরের উদ্দেশে আসা জাহাজে থাকা সরবরাহও অন্তর্ভুক্ত।

ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে আসে, যার বড় অংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান সংঘাতের জেরে ওই পথের প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে।

তবে গত কয়েক বছরে আফ্রিকা, রাশিয়া ও আমেরিকা থেকে আমদানি বাড়িয়ে তেলের উৎস বহুমুখীকরণ করেছে ভারত। পাশাপাশি কৌশলগত তেল ভাণ্ডার গড়ে তুলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সরকারি এক আধিকারিক জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি— ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—এর হাতে কয়েক সপ্তাহের জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিভিন্ন রুট দিয়ে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া, কেন্দ্র সরকার তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে আপাতত পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি না করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে বাফার মজুত আরও বাড়ানো যায়।

দেশে কৌশলগত তেল ভাণ্ডারের মধ্যে পাডুরে ২.২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটি), বিশাখাপত্তনমে ১.৩৩ এমএমটি এবং মঙ্গলুরুতে ১.৫ এমএমটি সংরক্ষণ ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া সমুদ্র উপকূলবর্তী চণ্ডিখোলে আরও একটি কৌশলগত ভাণ্ডার নির্মাণাধীন। জরুরি পরিস্থিতিতে এই মজুত ব্যবহার করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও এই ভাণ্ডার থেকে সরবরাহ দিয়ে চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব।

তবে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে দামে। বিশ্ববাজারের সূচক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার অতিক্রম করেছে, যা ইরান সংকটের পর প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি। তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং মূল্যস্ফীতির উপর চাপ তৈরি হয়, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে (৩১ মার্চ সমাপ্ত) ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ১৩৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। চলতি অর্থবর্ষে (এপ্রিল ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) ২০৬.৩ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ইতিমধ্যেই ১০০.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

Leave a Reply