নয়াদিল্লি, ২ মার্চ (আইএএনএস) : মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার সোমবার জানিয়েছে, প্রভাবিত যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডুর সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অসামরিক বিমান পরিবহণ সচিব সমীর কুমার সিনহা এবং মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা।
অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে আকাশপথ পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবায় তার প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি সীমাবদ্ধ আকাশপথ এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ধাপে ধাপে দীর্ঘ ও অতিদীর্ঘ দূরত্বের উড়ান পুনরায় চালু করছে। বিমান ও ক্রু পুনর্বিন্যাসের কাজও চলছে, যাতে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করা যায়।
আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত উড়ান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বিদেশি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো ৩ মার্চ জেদ্দা থেকে ভারতে ১০টি বিশেষ ত্রাণমূলক উড়ান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আকাশপথ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। যাত্রীদের সহায়তায় জেদ্দায় অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে সমন্বয় করছে সংস্থাটি।
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ভারত ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিও সীমিত পরিষেবা চালু রেখেছে, যা অপারেশনাল ও আকাশপথ পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল।
সরকার জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সব বিমান সংস্থাকে যাত্রীদের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ বজায় রাখা এবং টিকিট ফেরত, পুনর্নির্ধারণ ও সহায়তা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে সর্বশেষ ফ্লাইটের তথ্য যাচাই করতে এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করতে অনুরোধ করেছে মন্ত্রক।

