ভারত- কানাডা প্রতিরক্ষা সংলাপ স্থাপনে সিদ্ধান্ত: প্রধানমন্ত্রী মোদি

নয়াদিল্লি, ২ মার্চ (আইএএনএস): ভারত ও কানাডা প্রতিরক্ষা শিল্প, সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নজরদারি (মেরিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস) এবং সামরিক বিনিময় জোরদার করতে কাজ করবে। পাশাপাশি দুই দেশ যৌথভাবে ‘ইন্ডিয়া-কানাডা ডিফেন্স ডায়ালগ’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সোমবার নয়াদিল্লিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা আমাদের পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্কের পরিপক্বতার প্রতীক। আমরা প্রতিরক্ষা শিল্প, সামুদ্রিক নজরদারি ও সামরিক বিনিময় আরও বাড়াতে কাজ করব। আজ আমরা ‘ইন্ডিয়া-কানাডা ডিফেন্স ডায়ালগ’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর। গত বছর কানাডায় জি৭ সম্মেলনে তিনি আমাকে ও আমার প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আজ তাঁকে একই উষ্ণতায় স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।”

দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথম বৈঠকের পর থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ইতিবাচকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাণিজ্য ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্য স্থির করেছে দুই দেশ। মোদি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিইপিএ) চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভারত ও কানাডা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। বৈচিত্র্যের উদযাপন এবং মানবকল্যাণে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, কানাডার পেনশন ফান্ডগুলি ভারতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা ভারতের প্রবৃদ্ধির প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন।

কৃষি, কৃষি-প্রযুক্তি ও খাদ্য সুরক্ষাকে দুই দেশের যৌথ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মোদি ঘোষণা করেন, ভারতে ‘ইন্ডিয়া-কানাডা পালস প্রোটিন সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ স্থাপন করা হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একমত হয়েছে। মোদি জানান, কানাডা আন্তর্জাতিক সোলার অ্যালায়েন্স ও গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্সে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বছর ‘ইন্ডিয়া-কানাডা রিনিউএবল এনার্জি অ্যান্ড স্টোরেজ সামিট’ আয়োজন করা হবে। অসামরিক পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর ও উন্নত রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি নিয়েও যৌথভাবে কাজ করবে দুই দেশ।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চালিকাশক্তি হিসেবে জনগণের মধ্যে সংযোগকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষে-মানুষে সম্পর্ক আমাদের সহযোগিতার মূলভিত্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ভারতে ক্যাম্পাস খোলার বিষয়েও আমরা সম্মত হয়েছি।”
______

Leave a Reply