আন্তঃদেশীয় সহিংসতার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : নিজ্জার ইস্যুতে বিদেশ মন্ত্রক

নয়াদিল্লি, ২ মার্চ (আইএএনএস) : আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ বা সহিংসতায় ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণবিহীন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল বিদেশ মন্ত্রক(এমইএ)। একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর ভারত সফর উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ ব্রিফিংয়ে এমইএ-র সচিব (পূর্ব) পেরিয়াসামি কুমারন বলেন, ভারত আন্তঃদেশীয় সহিংসতা বা সংগঠিত অপরাধে জড়িত এমন অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও এসব দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এ ধরনের বিষয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত, জনসমক্ষে প্রচারিত বিবৃতির মাধ্যমে নয়।

খালিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কুমারন বলেন, নিজ্জার মামলায় আমরা বুঝতে পারছি যে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত এগোচ্ছে। সংবেদনশীল বিষয়গুলো বিচারাধীন অবস্থায় জনসমক্ষে মন্তব্য না করে আইনগত প্রক্রিয়াকে এগোতে দেওয়াই সমীচীন।

উল্লেখ্য, প্রাক্তন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডার পার্লামেন্টে নিজ্জার হত্যায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ’ থাকার দাবি করার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে কানাডা নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ভারতের হাইকমিশনারসহ কয়েকজন কূটনীতিককে ‘পারসন অব ইন্টারেস্ট’ আখ্যা দিলে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে।

ভারত ওই অভিযোগকে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে এবং অভিযোগ তোলে যে অটোয়া চরমপন্থী ও ভারতবিরোধী উপাদানদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে কুমারন ভারত-কানাডা নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এবং ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অটোয়ায় দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক হয়েছে। উভয় দেশই নিরাপত্তা ও নাগরিক সুরক্ষা সংক্রান্ত উদ্যোগে অগ্রগতি স্বীকার করেছে এবং উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ কর্মগোষ্ঠী (জেডব্লিউজি) সক্রিয় রয়েছে এবং প্রত্যর্পণ, লুকআউট নোটিস ও অন্যান্য কনস্যুলার বিষয় নিয়ে আলোচনা চালানোর জন্য একটি কনস্যুলার সংলাপ প্রক্রিয়া বিদ্যমান। আগামী মাসগুলোতে কনস্যুলার সংলাপের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

কুমারন বলেন, উভয় দেশ জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতা জোরদার করতে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, অবৈধ মাদক প্রবাহ বিশেষত ফেন্টানিল প্রিকর্সর এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ দমনে তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করতে উভয় দেশ নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ সংযোগ কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়েও একমত হয়েছে।

Leave a Reply