খামেনি হত্যার পর অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আরও দুই শীর্ষ নেতা

তেহরান, ১ মার্চ (আইএএনএস) : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া রবিবার থেকেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বে থাকবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজে’ই এবং অভিভাবক পরিষদ-এর একজন ফকিহ সদস্য। শরিয়া আইন ও ইরানের সংবিধানের সঙ্গে আইন প্রণয়নের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গার্ডিয়ান কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর প্রধান ও খামেনির প্রাক্তন উপদেষ্টা লারিজানি বলেন, খুব শিগগিরই একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হবে। প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেম পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরিষদটি যত দ্রুত সম্ভব গঠন করা হবে। আমরা আজই এটি গঠনের চেষ্টা করছি।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, খামেনির মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতিসহ সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য দেশ প্রস্তুত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু “আমাদের লাল রেখা অতিক্রম করেছেন” এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি আজ আরও বড় আঘাত হানার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা এমন শক্তি প্রয়োগ করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

এ ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) খামেনির ‘হত্যাকারীদের’ কঠোর শাস্তির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার মৃত্যুর নিশ্চিতকরণের পর আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক অভিযান চালানো হবে।

তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম বিবৃতিতে বলা হয়, উম্মাহর ইমামের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত থামবে না। আইআরজিসি আরও জানায়, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর পঞ্চম দফা শুরু করেছে, যার আওতায় ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন জাহাজ, গোলাবারুদবাহী নৌযান ও রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

Leave a Reply