ইসরায়েলের বেইত শেমেশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৯

জেরুজালেম, ১ মার্চ (আইএএনএস) : ইসরায়েলের বেসামরিক এলাকা বেইত শেমেশে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে রবিবার জানানো হয়েছে।

দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি শহরের একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এতে একটি সিনাগগ ও একটি পাবলিক বোমা শেল্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশের একাধিক বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বেইত শেমেশের মেয়র শমুয়েল গ্রিনবার্গ জানান, এখনও পর্যন্ত অন্তত ২০ জন বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তিনি বলেন, এর অর্থ এই নয় যে তাদের সঙ্গে কোনো অঘটন ঘটেছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তাদের খুঁজে বের করতে।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ তোলে। এক্স-এ প্রকাশিত বার্তায় আইডিএফ জানায়, ইরানি শাসন সরাসরি বেইত শেমেশের বেসামরিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, আর আমরা সুনির্দিষ্টভাবে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করি।

এর আগে আইডিএফ দাবি করে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দোলরাহিম মুসাভি এবং তেহরানে শীর্ষ নিরাপত্তা নেতৃত্বের আরও কয়েকজন সদস্য ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তাদের দাবি, তেহরানে ৭ জন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৪০ জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

আইডিএফ আরও জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তাঁর নেতৃত্ব কম্পাউন্ডে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দশক ধরে চলা সন্ত্রাসের অধ্যায়ের অবসান বলে বর্ণনা করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবাহিনী তেহরানের ওই কম্পাউন্ডে সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়। খামেনেইকে তারা ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা’র প্রধান হিসেবে উল্লেখ করে এবং ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনার নেপথ্য কারিগর বলে অভিযোগ তোলে। পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও আনে।

খামেনেই হত্যার পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে।

Leave a Reply