লখনউ, ১ মার্চ (আইএএনএস): মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র হত্যার ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বিশিষ্ট মুসলিম ধর্মীয় নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা একে মুসলিম বিশ্বের জন্য বিরাট ক্ষতি বলে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক মহলকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়।
মাওলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রজভী বেরেলভী রহ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি, বলেন, প্রায় চার দশক ধরে ইরানের নেতৃত্বদানকারী খামেনেইয়ের মৃত্যু মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর ক্ষতি। “এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্য নয়, যাঁরা তাঁকে সম্মান করতেন তাঁদের সকলের জন্যই শোক ও বেদনার মুহূর্ত,” মন্তব্য তাঁর।
তিনি অভিযোগ করেন, বহু বছর ধরেই তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছিল এবং এই হামলা ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা। পাশাপাশি ভারতে প্রতিবাদকারীদের গণতান্ত্রিক অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেন কোনওভাবেই হিংসা বা অশান্তির সৃষ্টি না হয়।
মাওলানা খালিদ রশীদ ফিরঙ্গী মাহালী, লখনউ ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারম্যান, এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, “ইরান একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র। ইজরায়েল ও মার্কিন হামলা চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে।” তিনি রাষ্ট্রসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
শিয়া ধর্মীয় নেতা মাওলানা সাইফ আব্বাস-ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই হামলা সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের সামিল এবং বিশ্বজুড়ে এর নিন্দা হওয়া উচিত। তিনি আন্তর্জাতিক শক্তির ভূ-রাজনৈতিক আগ্রাসনের সমালোচনা করে ক্রমবর্ধমান হিংসার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম খামেনেইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানি বাহিনী অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইজরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে খবর।
এই ঘটনার জেরে কাশ্মীর-সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচিও দেখা গেছে। প্রতিবাদকারীরা ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে সামরিক অভিযানের নিন্দা করেছেন।

