তেহরান, ১ মার্চ (আইএএনএস) : ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে রবিবার স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে স্থানীয় প্রসিকিউটর ইব্রাহিম তাহেরি জানান, এ হামলায় আরও ৯৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ছাত্রী। এছাড়া শিক্ষক, স্কুলকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন।
শনিবার সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহরে যৌথ হামলা চালায়। লক্ষ্যবস্তু শহরগুলোর মধ্যে ছিল তাবরিজ, কোম, ইসফাহান, কেরমানশাহ এবং করজ। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল ও অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
তেহরানে হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলী শামখানি এবং মোহাম্মদ পাকপুর যিনি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান কমান্ডার ছিলেন, নিহত হন বলে জানা গেছে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার রাতে জানায়, ইরানে সামরিক অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। এক পোস্টে তারা জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী সেন্টকম দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আরেকটি বার্তায় সেন্টকম দাবি করে, এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন হতাহতের খবর নেই এবং মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মার্কিন স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম এবং তা অভিযানে প্রভাব ফেলেনি, বলে জানানো হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শনিবার রাতে অভিযানের নাম ঘোষণা করে বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী, জটিল ও নিখুঁত বিমান অভিযান।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা হবে এবং দেশটির নৌবাহিনীও অচল করে দেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বহুবার বলেছেন, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না, তিনি যোগ করেন।
সাবেক সেন্টকম প্রধান কেনেথ এফ. ম্যাকেঞ্জি জুনিয়র মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে এ সময়েই নির্ধারিত হবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অংশীদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখতে সক্ষম কিনা।

