তেহরান, ১ মার্চ (আইএএনএস) : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘোষণার পর রাতভর তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে উদ্যাপন করেছে বহু মানুষ।
খামেনির মৃত্যু ৪৬ বছরের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়বদল হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ শুরু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
দেশের ভেতরে ও প্রবাসে থাকা বহু ইরানি খামেনির মৃত্যুর খবরকে স্বাগত জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় উদ্যাপনে কিছুটা শঙ্কার ছায়াও দেখা গেছে।
তেহরানের বিভিন্ন সূত্র, যারা স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হন, তারা জানিয়েছে, খবর প্রকাশের পরপরই অনেক বাসিন্দা জানালা ও ছাদে উঠে আনন্দধ্বনি দেন।
ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কারাজ, কাজভিন, শিরাজ, কেরমানশাহ, ইসফাহান এবং সানন্দজ-এ মানুষকে নাচতে ও আনন্দ করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) খামেনির ‘হত্যাকারীদের’ কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংস্থাটি তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, প্রতিশোধ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইআরজিসি, সশস্ত্র বাহিনী এবং বাসিজ বাহিনী তাদের নেতার আদর্শ রক্ষায় দৃঢ় থাকবে এবং ইসলামি মাতৃভূমির বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জবাবে ‘শিক্ষামূলক শাস্তি’ দেবে। ইরানের মন্ত্রিসভাও সতর্ক করে বলেছে, এই ‘মহাঅপরাধের’ জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর ঘোষণা দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, উন্নত গোয়েন্দা ও নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে খামেনিকে শনাক্ত করা হয় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে অভিযান চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পরপরই তেহরান ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও কুয়েতের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা জবাব দেয়। ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় অনুষ্ঠিত অনির্ধারিত আলোচনার দুই দিন পর ওয়াশিংটন সময় মধ্যরাতে ইরানে দিনের বেলায় এই হামলা চালানো হয়।
উল্লেখ্য, গত মাসে মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। সরকার কঠোর হাতে তা দমন করে; বিভিন্ন প্রতিবেদনে হাজারো মানুষের নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

