জয়পুর, ২৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার রাজস্থানের আজমের থেকে ১৪ বছর ও তার ঊর্ধ্ব বয়সী কিশোরীদের জন্য দেশব্যাপী এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করেন। জরায়ুমুখ ক্যানসারের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একাধিক স্কুলছাত্রীকে টিকা প্রদান করা হয়। পরে তিনি তাঁদের সঙ্গে কথোপকথনও করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দেশে নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার সম্পূর্ণ নির্মূল করা।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এইচপিভি টিকার পরিসর বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ কিশোরীকে প্রাণঘাতী ক্যানসারের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
কিষাণগড় বিমানবন্দরে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, রাজ্যপাল এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা। সেখান থেকে তিনি সেনা হেলিকপ্টারে ঘুঘরা হেলিপ্যাডে যান এবং পরে সড়কপথে জনসভাস্থলে পৌঁছন। সফরে নারীদের স্বাস্থ্যই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল ও আবেগঘন কেন্দ্রবিন্দু।
এই টিকাকরণ কর্মসূচিকে জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে একটি জাতীয় আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতে নারীদের মধ্যে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই রোগ। সরকারের দাবি, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদার ও দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
রাজস্থান সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে জয়পুর–বান্দিকুইকে সংযুক্তকারী চার লেনের গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করা হয়, যা দিল্লিমুখী যাতায়াতকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে। পাশাপাশি অমৃতসর–জামনগর অর্থনৈতিক করিডরের (প্যাকেজ ৭) অধীনে ছয় লেনের নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারযুক্ত হাইওয়ে অংশেরও উদ্বোধন করা হয়, যা আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করার পাশাপাশি পণ্য পরিবহণে গতি আনবে। এছাড়া জোধপুর শহরে যানজট কমাতে চার লেনের এলিভেটেড রোড প্রকল্পের শিলান্যাসও করেন তিনি, যা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ‘প্রতিটি ঘরে জল’ প্রকল্প ও নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে নোনেরা ও পর্বন-আকাওয়াদ পানীয় জল প্রকল্পের অধীনে নয়টি প্যাকেজের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজস্থানের রিনিউয়েবল এনার্জি জোন থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ট্রান্সমিশন সিস্টেমের উদ্বোধনও করেন তিনি। পাশাপাশি নতুন ২২০ কেভি ও ৪০০ কেভি গ্রিড সাবস্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
রোজগার উৎসব উদ্যোগের আওতায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে নির্বাচিত ২১,৮০০-রও বেশি প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য সংস্কার, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে একত্রে সামনে রেখে এই সফর রাজস্থানের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

