নাতির বিরুদ্ধেই নালিশ দিদিমার, সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে অগ্রিম জামিন মঞ্জুর ত্রিপুরা হাই কোর্টের

আগরতলা, ২৭ ফেব্রুয়ারি : গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগে স্বামী ও ১৪ বছরের নাবালক ছেলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অগ্রিম জামিনের আবেদনে রায় দিয়েছে ত্রিপুরা হাই কোর্ট। আদালত নাবালকের শিক্ষাজীবনের স্বার্থে সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাকে জামিন মঞ্জুর করলেও, বাবার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারির আদেশে বিচারপতি টি. অমরনাথ গৌড় বলেন, দিদিমা তাঁর নিজের নাতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন এবং ভুক্তভোগী তাঁরই মেয়ে, এই বিষয়টি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে, প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের আচরণে যদি কোনও সন্দেহজনক বিষয় না থাকত, তবে মা ও দিদিমার অভিযোগ জানানোর প্রশ্ন উঠত না। আদালতের মতে, নাবালকটি হয়তো বাবার প্রভাব বা প্ররোচনায় কাজ করেছে। নচেৎ অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীর পক্ষে শিশুটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা স্বাভাবিক নয়।

মামলার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা এফআইআর থেকে। অভিযুক্তরা হলেন ভুক্তভোগীর স্বামী এবং তাঁদের নাবালক পুত্র। অভিযোগ, স্বামী তাঁর ছেলেকে প্ররোচিত করে স্ত্রী ও শাশুড়ির উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।

নাবালকের বিরুদ্ধে আলমারি ভেঙে সোনার গয়না চুরি করে বাবার হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং প্রতিবাদ করায় মারধরের অভিযোগও এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী নিত্যদিন প্রাণনাশের হুমকির মধ্যে বাস করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটির বিবাহবিচ্ছেদের মামলা বিচারাধীন।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর এনসিসি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৩০৫(এ), ৩২৪(২), ৩৫১(১), ১১৭(২), ৩১৭(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। গ্রেফতারের আশঙ্কায় অভিযুক্তরা প্রথমে ট্রায়াল কোর্টে অগ্রিম জামিনের আবেদন করেন। তা খারিজ হলে তাঁরা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।

আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী বাঁশুরি পোদ্দার দাবি করেন, অভিযুক্তরা নির্দোষ এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি জানান, নাবালকটি মা ও দিদিমার হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং সে চাইল্ডলাইন ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির দ্বারস্থ হয়ে সুরক্ষা চেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুভেনাইল জাস্টিস আইন অনুযায়ী নাবালকও অগ্রিম জামিনের অধিকারী। নবম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে পরীক্ষার মুখে তার মানসিক চাপ বেড়েছে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত পরীক্ষায় বসতে না পারলে তার শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়ে যাবে।

তবে আদালত লক্ষ্য করেছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারায় হাজিরার নোটিস দিলেও অভিযুক্ত স্বামী তদন্তে সহযোগিতা করেননি। বারবার সময় চেয়ে তদন্তে বিলম্ব ঘটানো হয়েছে। আদালত মন্তব্য করেছে, আইন একতরফা নয়। শুধু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেই চলবে না; আবেদনকারী নিজেও আইনি প্রক্রিয়া মানছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আইন মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

তবে নাবালকের নবম শ্রেণির পরীক্ষা সামনে থাকায় এবং পারিবারিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক আরও অবনতির ঝুঁকি বিবেচনা করে আদালত তার ক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল অবস্থান গ্রহণ করে অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করেছে। অন্যদিকে, পিতার আবেদন খারিজ করা হয়েছে।

Leave a Reply