‘মন কি বাত’-এ ধান বিপ্লব ও কেরলের কুম্ভ পুনরুজ্জীবনকে কুর্নিশ প্রধানমন্ত্রীর

নয়াদিল্লি, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত-এর ১৩১তম পর্বে দেশের কৃষিক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবনকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারতের কৃষক ও সংস্কৃতির শক্তিই দেশকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঐতিহ্যবাহী বীজ সংরক্ষণে দেশজুড়ে এক বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেরলের থ্রিসুর জেলার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে কৃষকেরা ৫৭০ প্রজাতির ধান চাষ করছেন। এর মধ্যে স্থানীয় ও ভেষজ ধানের পাশাপাশি অন্য রাজ্য থেকে আনা প্রজাতিও রয়েছে। তাঁর কথায়, “এটি শুধু চাষাবাদ নয়, বীজের ঐতিহ্য রক্ষার এক বৃহৎ আন্দোলন।”

তিনি উল্লেখ করেন, ভারত বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উৎপাদন ১৫ কোটি টনেরও বেশি ছাড়িয়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য ভাণ্ডারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে।

কৃষিপণ্যের রফতানিতেও অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কর্নাটক থেকে জিআই-ট্যাগপ্রাপ্ত নানা পণ্য—যেমন নঞ্জনগুড রাসাবালে কলা, মাইসোর পানপাতা ও ইন্ডি লেবু—বিদেশে, বিশেষত মালদ্বীপে রফতানি হচ্ছে। এই সব পণ্য তাদের বিশেষ স্বাদ ও গুণমানের জন্য ভৌগোলিক স্বীকৃতি (GI) পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের কৃষক গুণগত মান বাড়াচ্ছেন, উৎপাদন বাড়াচ্ছেন এবং নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলছেন।”

সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গে তিনি গত বছরের মহাকুম্ভ-এর কথা স্মরণ করেন, যা প্রয়াগরাজ-এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, এই আয়োজন ছিল ভারতীয় সনাতনী চেতনার এক মহাজাগরণ।

এর পাশাপাশি কেরলের ‘কেরল কুম্ভ’ বা ‘মামাংগম’ উৎসবের পুনরুজ্জীবনের কথাও উল্লেখ করেন। তিরুনাভায়া-এ ভারতাপুঝা নদীর তীরে শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব একসময় বিলুপ্তপ্রায় হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি তা পুনরায় আয়োজন করা হয়েছে এবং ভক্তদের ব্যাপক সমাগমে তা সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর ভারতের মহাকুম্ভ হোক বা দক্ষিণের কেরল কুম্ভ—এই আয়োজনগুলি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও ঐক্যের প্রতীক। ভৌগোলিক ভিন্নতা থাকলেও ভক্তির স্রোত সর্বত্র এক ও অভিন্ন—এই বার্তাই বহন করে ভারত।

Leave a Reply