চড়িলাম, ২২ ফেব্রুয়ারি: চার ন মূক বধির মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক ফাইন্যাল পরীক্ষার্থীর সাফল্য কামনা করে তাদের পাশে দাঁড়ালেন বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা। বিশ্রামগঞ্জ থানা এলাকায় এই বছর প্রচুর পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। তাদের সকলের সাফল্য কামনা করেছেন বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি।
বিশ্রামগঞ্জ থানা এলাকার মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এমন চারজন পরীক্ষার্থী রয়েছে যারা মূক বধির। কথা বলতে পারে না, কানেও শুনেনা। অত্যন্ত অভাবী পরিবারের সন্তান তারা। তাদের বাবা-মা কেউ বন থেকে লাকড়ি কুঁড়িয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। কেউ আবার অন্যের জমিতে হাজিরা কাজ করে, কেউ অন্যের রাবার বাগানে টেপারি করে সংসার নির্বাহ করে। পরিবারে অভাব অনটন তাদের নিত্য সঙ্গী। এরপরেও জীবন যুদ্ধে হার মানেনি এই চারজন মূক বধির সন্তান। তারা তাদের সংসারের সমস্ত বাঁধা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের চোখেমুখে স্বপ্ন তারা লেখাপড়া শিখে মানুষ হয়ে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে।
তারা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কঠোর শ্রম করে যাচ্ছে। আর হাতে গোনা মাত্র কয়টা দিন শুরু হতে যাচ্ছে তাদের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক ফাইন্যাল পরীক্ষা। তাদের ঘরে পুষ্টিকর কোন খাবার নেই। সাধারণত পরীক্ষার সময় সমস্ত অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পুষ্টিকর খাবার দিয়ে থাকে। যাতে করে তাদের শরীরে এনার্জি আসে। ভালো করে তারা যেন পড়াশুনা করতে পারে। তাদের মধ্যে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম বিশ্রামগঞ্জ থানা এলাকার চিকন ছড়া বাইল্যা মুড়ার লাকড়ি বিক্রেতা গিয়াস উদ্দিন এবং ফাতেমা বেগমের মূক বধির মাধ্যমিক ফাইন্যাল পরীক্ষার্থী কন্যা সাদিয়া আক্তার। সাদিয়া লাঠিয়াছড়া হাই স্কুল থেকে এ বছর মাধ্যমিক ফাইনাল পরীক্ষা দেবে।
একইভাবে বিশ্রামগঞ্জ থানার অন্তর্গত প্রমোদনগর ভিলেজ এলাকায় দীন মজুর খোকন দেববর্মার মূক বধির ছেলে দিপু দেববর্মা এই বছর প্রমোদনগর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ফাইন্যাল পরীক্ষা দেবে। পরিবারটি অত্যন্ত গরিব। একইভাবে বিশ্রামগঞ্জ থানার অন্তর্গত প্রমোদনগর ভিলেজের দরিদ্র শ্রমজীবী বুদ্ধ দেববর্মা ‘র মূক বধির ছেলে বিশ্বনাথ দেববর্মা এই বছর প্রমোদনগর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ফাইন্যাল পরীক্ষা দেবে। পরিবারটি অত্যন্ত গরিব। একই রকম ভাবে বিশ্রামগঞ্জ থানার অন্তর্গত সমতল আমতলী এলাকার দরিদ্র পরিবার খোকন সাহার মেয়ে সোনালী সাহা বিশ্রামগঞ্জ বিদ্যা জ্যোতি স্কুল থেকে এই বছর উচ্চমাধ্যমিক ফাইন্যাল পরীক্ষা দেবে। এই চারজন মূক বধির ছাত্র-ছাত্রী দের খবর জানতে পেরে শত কর্মব্যস্ততার ফাঁকে রবিবার সকালে তাদের সকলের বাড়িতে ছুটে যান বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা। তিনি তাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্ত খুঁটি নাটি বিষয় জেনে নেন। ওসি অজিত দেববর্মা এই চার মূক বধির পরীক্ষার্থীদের হাতে তাদের বাড়িতে গিয়ে তুলে দেন চল্লিশটি দামী কলম,দামী খাতা,চারটি হরলিক্স, আপেল ,আঙ্গুর, বেদানা ,কমলা সহ বিভিন্ন জাতের ফল ফসারী। যাতে করে পরীক্ষার সময়ে তাদের শরীরে পুষ্টির অভাব না হয়।
তিনি তাদের অভিভাবকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভবিষ্যতে তাদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে যদি টাকা পয়সার কোন সমস্যা হয় তিনি যেখানেই থাকেন না কেন সাহায্য করবেন তাদেরকে। যাতে করে তারা ভালোভাবে পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা’র এই মানবিক কাজকে কুর্নিশ জানিয়েছে গোটা বিশ্রামগঞ্জ এলাকার শিক্ষানুরাগী মহল। বিশ্রামগঞ্জ থানা এলাকায় পুলিশি সংস্কৃতি বদলানোর যেন মূল কারিগর ওসি অজিত দেববর্মা।
আগে মানুষ বিশ্রামগঞ্জ থানার নাম শুনলে ভয়ে পেত। এখন মানুষ থানার নাম শুনলে ভয় পায় না। বরং মানুষ বিশ্বাস করে ওসি অজিত দেববর্মা আছে তো-তাই আমরাও নিরাপদ। জনসাধারণের ভাষায় এইরকম অফিসার ওই তো আমরা চাই-যিনি দরজায় দাঁড়ালে মনে সাহস আসে। মানবিকতার এক অনন্য উদ্যোগ প্রমাণ করে দিল পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইন নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন পুলিশ অফিসারের প্রকৃত পরিচয়।
ওসি অজিত দেববর্মা ‘র এই মানবিক কাজ দেখে এলাকার মানুষ বলছে-” মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা”তিনি প্রমাণ করে দেখালেন পুলিশ মানেই শুধু কড়া আইন নয়, পুলিশের পোশাকের ভেতরেও থাকে এক উষ্ণ মানবিক হৃদয়। যেটা বাস্তবের মাটিতে প্রমাণ করে দেখালেন বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা। এলাকার এক শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি তার এই মহৎ ও মানবিক কাজকে হৃদয় থেকে সমর্থন করে বলেছেন বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা কে দেখলে পুলিশ মনে হয় না, মনে হয় তিনি আমাদের ঘরেরই ছেলে। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা বলেছেন তিনি ভবিষ্যতেও এই চার মূক বধির ছাত্র-ছাত্রীর পড়াশুনায় অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করবেন।

