আগরতলা, ২০ ফেব্রুয়ারি: খোয়াই জেলার আশারামবাড়ি এলাকার চামু বস্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিএসএফ-এর একদল জওয়ান শূন্যে গুলি চালিয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতন চালায়। ঘটনায় আহত দু’জনকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এদিন দুপুরে বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডেন্ট অনিল কুমার (পদবী অনুযায়ী পরিচিত) একটি অভিযোগের সূত্র ধরে চামুবস্তি এলাকার বাসিন্দা সুষংকর দেবকে মারধর করেন। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য খোয়াই জেলা হাসপাতালে যান। সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে শূন্যে গুলি চালানোর খবর পেয়ে তিনি জানতে পারেন, ১০ থেকে ১৫ জন বিএসএফ জওয়ান তার বাড়িতে প্রবেশ করেছেন।
পরিবারের দাবি, গুলির শব্দে সুষংকর দেবের মা নমিতা দেব(৬০) ঘর থেকে টর্চ নিয়ে বেরিয়ে এলে তার হাত থেকে টর্চ কেড়ে নিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এছাড়াও, বাড়িতে কোনও মহিলা জওয়ান ছাড়াই দরজায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুটি দরজা ভেঙে ফেলা হয় এবং ঘরের ভেতরে থাকা এক ভাতিজিকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে আনা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের আরও দাবি, সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তিনিও আহত হন।
সুষংকর দেবের বক্তব্য, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা কিছু জানাতে রাজি হননি।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীদের একাংশের প্রশ্ন, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনী অবৈধ কার্যকলাপ রোধে পদক্ষেপ নিতেই পারে, তবে অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে পুরো পরিবারের উপর এভাবে আক্রমণ কেন? অন্তঃসত্ত্বা মহিলাসহ পরিবারের সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তবে এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

