‘সেভেন সিস্টার্স’ মন্তব্য ঘিরে সতর্কতা, জঙ্গি তৎপরতা ফের বাড়ার আশঙ্কা নিরাপত্তা সংস্থার

নয়াদিল্লি, ১৯ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): বাংলাদেশে তারেক রহমান-এর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মেয়াদ শুরু হওয়ার পর নয়াদিল্লির নজর এখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশের দিকে। প্রাথমিক ইঙ্গিত ইতিবাচক হলেও, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর বিদায়ী ভাষণে ‘সেভেন সিস্টার্স’ প্রসঙ্গ তোলাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। তাদের আশঙ্কা, এতে উত্তর-পূর্ব ভারতে জঙ্গি তৎপরতা ফের মাথাচাড়া দিতে পারে।

রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন-এর সঙ্গে বৈঠকের কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, রহমান ভারত-সংলগ্ন সুসম্পর্কের গুরুত্ব উপলব্ধি করলেও, ইউনুস তাঁর বিদায়ী ভাষণে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে ‘সেভেন সিস্টার্স’ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থনৈতিক সংহতির প্রসঙ্গ তোলেন। গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, এই মন্তব্য উদ্বেগজনক। অতীতে উত্তর-পূর্বের একাধিক জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে কার্যকলাপ চালিয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে, যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় ছিল, তখন এই সমস্যা প্রকট হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ দমন করে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছে ভারত। এমন সংবেদনশীল অঞ্চল নিয়ে মন্তব্যকে ‘উসকানিমূলক’ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই করিডরই উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে।

এছাড়াও সীমান্তবর্তী এলাকায় জামাতের প্রভাব বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, সীমান্ত সংলগ্ন একাধিক কেন্দ্রে জামাত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। ফলে অতীতে ভেঙে দেওয়া জঙ্গি পরিকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, ভারত সীমান্তে সতর্ক রয়েছে এবং আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সহজ হবে না। তবু সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এবং জঙ্গি পরিকাঠামো পুনর্গঠন রুখতে ঢাকার সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে বলেই মনে করছে নয়াদিল্লি।
_____

Leave a Reply