দাসত্বের শিকল ছিড়ে বের হতে হিন্দি সহ আঞ্চলিক ভাষায় জোর, ২০ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় রাজভাষা সম্মেলন, থাকবেন অমিত শাহ

আগরতলা, ১৯ ফেব্রুয়ারি : পূর্ব, পূর্বোত্তর ও উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে যৌথ আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রিপুরায়। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক কাজে হিন্দির ক্রমবর্ধমান প্রয়োগ ও রাজভাষা নীতির বাস্তবায়ন পর্যালোচনার লক্ষ্যে আগামীকাল ২০ ফেব্রুয়ারী আগরতলায় হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গনে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। মূলত, ইংরেজির দাসত্বের শিকল ছিড়ে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যেই হিন্দি সহ আঞ্চলিক ভাষায় জোর দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাজভাষা বিভাগের সচিব।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাজভাষা বিভাগের সচিব অনসুলি আর্য আজ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রের রাজভাষা হিন্দি এবং লিপি দেবনাগরী। এই নীতির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ২৬ জুন ১৯৭৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে রাজভাষা বিভাগ একটি স্বতন্ত্র দপ্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতি অর্থবছরেই বিভাগ চারটি আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করে, যাতে বিভিন্ন অঞ্চলে রাজভাষা নীতির অগ্রগতি মূল্যায়ন করা যায়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সম্মেলন ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আগরতলায় দ্বিতীয় এই যৌথ সম্মেলনে পূর্ব, পূর্বোত্তর ও উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশা, বিহার, ঝাড়খণ্ডসহ পূর্বাঞ্চল; অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমসহ পূর্বোত্তরাঞ্চল এবং উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখসহ উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ৩০০০ উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

তিনি জানান, আগামীকাল ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে সম্মেলনের উদ্বোধন হবে। রাজভাষা বাস্তবায়নে উৎকর্ষ প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দপ্তর, ব্যাংক ও সংস্থাকে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি সেরা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত নগর রাজভাষা কার্যনির্বাহী সমিতিগুলিকে ‘নারাকাস রাজভাষা সম্মান’ প্রদান করা হবে। তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাপ্ত ত্রৈমাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মোট ৮০টি পুরস্কার দেওয়া হবে, বলেন তিনি।

তাঁর দাবি, উদ্বোধনী অধিবেশনে রাজভাষা বিভাগের প্রকাশনা রাজভাষা ভারতী-র পূর্বোত্তর বিশেষ সংখ্যা উন্মোচন করা হবে। একই সঙ্গে ‘ভারতীয় ভাষা ও রাজভাষা হিন্দি – কালজয়ী কৃতি’ এবং ‘অমৃতবাণী সংস্কৃতের প্রেরণাদায়ী শ্লোক’ শীর্ষক গ্রন্থও প্রকাশ করা হবে। তিনি জানিয়েছেন, দেশের ভাষাগত ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বই প্রকাশকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র উদ্যোগে ভারতীয় ভাষাগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে বহুভাষিক অনুবাদ ব্যবস্থা ‘ভারতী’ও উন্নত করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হিন্দি ও সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ভাষার মধ্যে দূরত্ব কমানো এবং আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার বাড়ানো।

তিনি জানান, সম্মেলনস্থলে বিভিন্ন ব্যাংক, সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রদর্শনী স্টল থাকবে, যেখানে রাজভাষা সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। আধিকারিকদের সুস্থ জীবনযাপন উৎসাহিত করতে একই দিনে বিকেল ৪টা থেকে আন্তর্জাতিক ইনডোর এক্সিবিশন সেন্টার হাপানিয়ায় যোগ সেশন আয়োজন করা হয়েছে। এতে সহজ যোগাসন, প্রণায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন করানো হবে।

তিনি জানিয়েছেন, রাজভাষা হিন্দি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হলেও ভারতের বহুভাষিক ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়েই অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সম্মেলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজভাষা নীতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply