অসমের বিশ্বখ্যাতির পেছনে চা-শ্রমিকদের অবদান উল্লেখ নীতিন নবীনের

গুয়াহাটি, ১৯ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): অসমের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং বিশ্বপরিচিতি গড়ে তুলতে চা-বাগানের শ্রমিকদের অনন্য অবদানের কথা তুলে ধরলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বৃহস্পতিবার তিনসুকিয়া ও ডিব্রুগড় জেলা সফরে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ সফরের বিবরণ শেয়ার করে নবীন জানান, তিনি তিনসুকিয়া জেলার বারেকুরি গ্রামের পবিত্র নামঘরে প্রার্থনা করেন। তাঁর কথায়, এই নামঘর মোরান সম্প্রদায়ের গভীর আস্থা ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির প্রতীক। বারেকুরি এমন এক গ্রাম, যেখানে ভক্তি ও প্রকৃতি এক অনন্য সহাবস্থানের উদাহরণ তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বারেকুরি গ্রাম বিরল প্রজাতির হুলোক গিবনের আবাসস্থল, যাদের স্থানীয়ভাবে “হোলো বান্দর” বলা হয়। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর এই সহাবস্থান গ্রামটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। “এই ছোট্ট গ্রামটি দেখায় কীভাবে বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি একসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে,” মন্তব্য করেন নবীন। তিনি নামঘরে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য প্রার্থনা করেন বলেও জানান।

পরবর্তীতে ডিব্রুগড় জেলার লাখিনগর এলাকায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল-এর বাসভবনে ঐতিহ্যবাহী অসমিয়া প্রাতরাশে অংশ নেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা অসমের আতিথেয়তা ও সমৃদ্ধ রন্ধনপ্রথার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়।

অসমের চা-শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে নবীন বলেন, রাজ্যের সবুজ চা-বাগান বিশ্বজুড়ে খ্যাত, আর স্বতন্ত্র স্বাদ ও উৎকৃষ্ট মানের জন্য অসম চা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই সাফল্যের নেপথ্যে চা-বাগানের শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলাই প্রধান ভূমিকা নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

“চা-শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমই অসম চাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁদের অবদান অসমের গর্ব,” বলেন নবীন। একইসঙ্গে তিনি জানান, এই সফর তাঁকে অসমের সাংস্কৃতিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক শক্তিকে সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা আরও দৃঢ়ভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply