বিশাখাপত্তনম, ১৯ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবার বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ, জলদস্যুতা, সামুদ্রিক সন্ত্রাস, অবৈধ মাছধরা, পাচার, সাইবার দুর্বলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নৌবাহিনীগুলির মধ্যে সহযোগিতা এখন আর বিকল্প নয়, বরং অত্যাবশ্যক। বিশাখাপত্তনমে বহুপাক্ষিক নৌ-মহড়া ‘মিলান ২০২৬’-এর উদ্বোধনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পারস্পরিক সম্মান ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ঘনত্ব বাড়ছে, ফলে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ অভিযান আরও ঘন ঘন এবং জটিল হয়ে উঠছে। “কোনও একক নৌবাহিনী, যত শক্তিশালীই হোক না কেন, একা এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। তাই নৌবাহিনীগুলির মধ্যে সহযোগিতা এখন বাধ্যতামূলক,” মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, মিলান ২০২৬-এর লক্ষ্য অংশীদার দেশগুলির নৌবাহিনীর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সেরা অনুশীলন বিনিময়ের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সুবিধার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা। সমুদ্রের যৌথ মহড়া, পেশাগত মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে স্থায়ী বন্ধুত্বের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক আইন ও নৌ-পরিচালনার স্বাধীনতার ভিত্তিতে ন্যায্য সামুদ্রিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে রাজনাথ সিং বলেন, “মিলান সেই যৌথ ভাষারই বাস্তব রূপ।” তিনি জানান, এ বছরের মহড়ায় ৭৪টি দেশের অংশগ্রহণ এটিকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বৃহৎ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্করণে পরিণত করেছে, যা ভারতের প্রতি বৈশ্বিক সামুদ্রিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।
“একজন প্রকৃত বিশ্বমিত্র হিসেবে ভারত এই অঞ্চলে গঠনমূলক ও নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালন করে যাবে,” বলেন তিনি। সমন্বিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সমৃদ্ধি সহযোগিতা, আস্থা ও অভিন্ন অঙ্গীকারের মাধ্যমেই সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মহড়ার ‘সি ফেজ’ অনুষ্ঠিত হবে। হারবার ও সি—উভয় পর্যায়েই অংশগ্রহণকারী নৌবাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা জোরদার এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও অনুসন্ধান-উদ্ধার অভিযানের মতো উন্নত মহড়া পরিচালিত হবে।
১৯৯৫ সালে ভারতীয় নৌবাহিনী-র উদ্যোগে শুরু হওয়া মিলান একটি দ্বিবার্ষিক বহুপাক্ষিক নৌ-উদ্যোগ, যা প্রথমে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড—এই চারটি আঞ্চলিক দেশের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছিল।

